বিয়ানীবাজারে ভেঙেছে কুশিয়ারার ডাইক, প্লাবিত চার ইউনিয়ন

flood picবিয়ানীবাজারে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার কয়েক সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে পানি বিপথ সীমার প্রায় ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভেঙ্গে গেছে বেশ কয়েকটি ডাইক। তলিয়ে গেছে বিয়ানীবাজার-সিলেট মহা সড়কের সিংহ ভাগ।  নদী সংলগ্ন কয়েকটি স্থানীয় বাজার ডুবে গেছে।

উপজেলার নদীর তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে অকাল বন্যা। বাড়ি-ঘরে আবার অনেকের বাড়ির আঙ্গিনায় পানি উঠায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

বন্যায় তলিয়ে গেছে প্রায় কয়েক শত একর জমির ধানের চারা। মহা দুঃচিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা । কয়েকটি মৎস্য খামার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে খামার মালিকদের। জরুরী ভিত্তিতে কুশিয়ারা নদীর ওই ডাইকের মেরামত করে অকাল বন্যার হাত থেকে বিয়ানীবাজারবাসীকে রক্ষা করার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এছাড়া গত ক’দিন ধরে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসায় কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসছিল। ইতিমধ্যে উল্লেখিত গ্রামের সিংহ ভাগ লোকদের বাড়িঘরে ও আঙ্গিনায় পানি উঠায় বন্দি জীবন যাপন করছেন লোকজন। প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের মানুষের দূর্বিসহ জীবন যাপন করতে হয়। নদীর তীরবর্তী গ্রাম ও বাড়িঘর হওয়ার কারনে এ দূর্ভোগের শিকার হন।

কুড়ার বাজার ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আলকাছ আলী জানান, আমার এলাকায় প্রায় শতাধিক পরিবার পানি বন্দি রয়েছে। আমারা এলাকা কইর বন্দ, খশিরবন্দ জয় নগর, হাতিটিলা,আঙ্গারজুর, আকাখাজানা,উত্তর আকাখাজানা, মোহাম্মদপুর, দেউলগ্রামসহ ইউপির নদী তীরবর্তী প্রায় সকল গ্রাম তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

শেওলা ইউপি চেয়ারম্যান আখতার খান জাহেদ জানান, প্রায় ২শত পরিবার পানি বন্দি রয়েছে আমার ইউনিয়নে। দত্তগ্রাম, ঢেউনগর, দিলবাগ, গোচ্ছ গ্রাম, কোনা শালেশ্বর, শালেশ্বর, চারাবই, দাউদপর, দক্ষিণ ভাগ, তেরাদলসহ সকল গ্রামে লোকজন বর্তমানে পানি বন্দি রয়েছেন। এলাকায় এখনো কোন সরকারি ত্রাণ গিয়ে পৌছায়নি বলেও জানান তিনি।

দুবাগ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম দাদা ভাই জানান, তার এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি মারাত্বত আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকা তলিয়ে গেছে।  মুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের জানান, তার এলাকায় প্রায় ২ শত পরিবার পনি বন্দী রয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান বলেন, আমি গতকাল বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। প্রতি বছরই নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে শত শত পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। এরমধ্যে বর্ষা মৌসুমে মানুষের দূর্ভোগের অন্ত নেই। কুশিয়ারা নদীর পানি উপচে নদীর তীরবর্তী গ্রামের বাড়িঘরে ও আঙ্গিনায় পানি উঠে অকাল বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই পানি বাড়ছে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। মানুষের দূর্ভোগ ও কষ্টের শেষ নেই। স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা রয়েছে বিপাকে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, বিকাল পর্যন্ত বন্যার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপাতত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র খুলে দরকার হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে।