’বিএনপিতে ভাঙ্গনের সুর’

1280px-বাংলাদেশ_জাতীয়তাবাদী_দলের_পতাকা.svgসুফিয়ান আহমদ : বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপি’র কাউন্সিলের দীর্ঘ ১১ মাস পর অনুষ্টিত কার্যকরী কমিটির প্রথম সভা পন্ড হয়ে যাওয়ায় এখানে আবারো বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি। দেখা দিয়েছে অভ্যন্তরিন কোন্দল। সেই কোন্দলের কারণে ভাঙ্গনের সৃষ্ঠি হয়েছে বিএনপিতে। উপজেলা বিএনপি নেতাদের মধ্যে সৃষ্ঠি হয়েছে একাধিক গ্র“প। বুহস্পতিবার দলটির প্রথম সভায় উপজেলা বিএনপি সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুলের বক্তব্য চলাকালীন সিনিয়র সহ সভাপতি নজরুল হোসেন সমর্থক নেতাকর্মীরা সভাপতির বক্তব্যে ক্ষুদ্ধ হয়ে সভা মঞ্চ ত্যাগ করলে এই বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠে। কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় দলটির কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভা। যার কারণে দলটির নেতাকর্মীরাও হয়ে পড়েছেন হতাশ ও ক্ষুদ্ধ।

জানা যায়, কাউন্সিলের দীর্ঘ ১১ মাস পর বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটি প্রথম সভা আহবান করা হয়। বৃহস্পতিবার পৌরশহরের একটি রেষ্টুরেন্টে এই সভা অনুষ্টিত হয়। উপজেলা কমিটি কর্তৃক দীর্ঘদিন পর ডাকা সভায় উজ্জীবিত হয়ে দলটির সকল ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ উপজেলার কার্যনির্বাহী কমিটির দায়িত্বশীলরা তাতে অংশগ্রহণ করেন। আয়োজিত সভায় দলটির সিনিয়র সহ সভাপতি নজরুল হোসেনও তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। সভায় তিনি ও সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল পাশাপাশি চেয়ারে বসেন। যা দেখে দলটির নেতাকর্মীরা আবেগাপ্লুত ও উচ্ছসিত হয়ে পড়েন। কেননা এই দৃশ্যটি তারা দীর্ঘ কয়েক বৎসর পর দেখতে পান। উপজেলার শীর্ষ এই দু’নেতার পাশাপাশি বসার দৃশ্যে উপস্থিত নেতাকর্মীরা আবারো নতুন করে দলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে থাকেন। যা দলটির নেতাদের বক্তব্যে ফুটে উঠে। উৎফুল্ল দলটির ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা তাদের বক্তব্যে উপজেলার এই দুই শীর্ষনেতাকে আজীবন এক সাথে ও পাশাপাশি বসে দলকে শক্তিশালী করার জন্য এবং তাদেরকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তাদের প্রতি আহবান জানান। প্রায় সব বক্তাই একই সুরে বক্তব্য দেন। এবং তাদের বক্তব্যে ঘুরেফিরে উঠে আসে এই শীর্ষনেতাদের পাশাপাশি বসার দৃশ্যটি। একই সাথে উপজেলা বিএনপির কোন্দল নিরসনে উপস্থিত সবাই অনুমোদনের জন্য জেলা কমিটির কাছে জমা দেয়া পাল্টাপাল্টি কমিটি প্রত্যাহার করার দাবী জানান। নেতাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সভায় দলটির সিনিয়র সহ সভাপতি নজরুল হোসেন তার বক্তবে বক্তব্য দেয়া নেতাদের সাথে একমত পোষণ করে আগামীতে দলকে শক্তিশালী এবং একসাথে আন্দোলন করার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান। এবং জেলায় প্রেরিত তার জমা দেয়া কমিটি প্রত্যাহার করে নেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল তার বক্তব্যে বিষয়টি পাশ কাটিয়ে গেলে সভায় উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে নজরুল হোসেন তার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে সভা মঞ্চ ত্যাগ করলে পন্ড হয়ে যায় দলটির প্রথম সভা। যার কারণে কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ করতে হয় তাদের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভাটি। আর এর ফলে আবারো বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপি। এদিকে নেতাদের এই বিভক্তিতে পুনরায় হতাশ হয়ে পড়লেন দলটির নেতাকর্মীরা। ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন তারা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির তৃণমূল পর্যায়ের দুই নেতা  বিয়ানীবাজারকন্ঠকে বলেন, বর্তমানে দল কঠিন সময় অতিক্রম করছে। সরকারের হামলা মামলা আর দমনপীড়নে বর্তমানে যেখানে দলের দূর্দিন চলছে সেখানে যদি নেতারা দলটিকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে দলকে বিভক্ত করেন তাহলে দলটির বিশাল এই নেতাকর্মীরা যাবেন কোথায় এমন প্রশ্ন তাদের।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে দলটির উপজেলার সিনিয়র সহ সভাপতি নজরুল হোসেন বিয়ানীবাজারকন্ঠকে বলেন, কাউন্সিলের দীর্ঘ ১১ মাস পর আহবান করা প্রথম সভায় আমি আমার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে সভায় অংশগ্রহণ করি। সভায় আমি আর সভাপতি পাশাপাশি বসা দেখে উপস্থিত সবাই খুশি ও আনন্দিত হন। সভায় বক্তরা আমাদের এভাবে একসাথে দেখতে চান। একই সাথে উপজেলা বিএনপির কোন্দল নিরসনে জেলা কমিটির কাছে জমা দেয়া পাল্টাপাল্টি কমিটি প্রত্যাহার করার দাবী জানান। আগামীতে দলকে শক্তিশালী করতে আমি তাদের দাবী মেনে নেই এবং জেলায় প্রেরিত আমার জমা দেয়া কমিটি প্রত্যাহার করে নেব বলে প্রতিশ্রুতি দেই। কিন্তু সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল তার বক্তব্যে এই বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে আবারো বিএনপিতে নতুন করে বিভক্তি সৃষ্টি করলেন। যার কারণে ক্ষুদ্ধ হয়ে আমার নেতাকর্মীরা সভাস্থল ত্যাগ করেন চলে আসেন।
এবিষয়ে জানতে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।