লোকবল ও যন্ত্রের সংকটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

atoইকবাল হোসেন :  সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরস্কার জিতলেও বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ধুঁকছে লোকবল ও পরীক্ষণ যন্ত্রের সংকটে। নানা সীমাবদ্ধতায় বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি।

হাসপাতালের অন্ত:বিভাগ, জরুরী বিভাগ এবং বহির্বিভাগে রোগীদের সেবা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরতরা। এ অবস্থায় দ্রুত সময়ের মধ্যে সংকট নিরসনে উদ্যোগ না নিলে হাসপাতালের সেবার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা হাসপাতালের উপর নির্ভর করেন বিয়ানীবাজার ছাড়াও বড়লেখা, জকিগঞ্জ, জুড়ি, কানাইঘাট ও গোলাপগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ। ফলে প্রসুতি ওয়ার্ড ও সাধারণ ওয়াডের নির্ধারীত শয্যায় রোগীদের সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝেতে আশ্রয় নেন। আর রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীদের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর বেশী নির্ভর করতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২১ পদের মধ্যে শিশু, সার্জারি, চক্ষু, মেডিসিন, নাক-কান-গলা, এনেস্থেশিয়া বিভাগের কোন ডাক্তার নেই। বর্তমানে ১৫ জন ডাক্তার কর্মরত থাকলেও ‘ডেপুটেশনে’ আছেন ৩জন। নার্স’র ৪টি পদ শূন্য।

এছাড়া পরীক্ষণ যন্ত্র আলট্রাসনোগ্রাম থাকলেও নেই ‘টেকনিশিয়ান’, স্থাপনের পর ১০ বছর থেকে বিশ লাখ টাকার এক্সরে মেশিনটি বিকল পড়ে আছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র এম্বুল্যান্সটিও বিকল, প্যাথলজিস্ট না থাকায় ওই বিভাগের প্রয়োজনীয় সামগ্রী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পথে। দুই মাস পূর্বে সরকার নতুন একটি জেনারেটর হাসপাতালকে প্রদান করলেও এর জন্য প্রয়োজনীয় ঘর না থাকায় এটি ব্যবহৃত হচ্ছে না।

শনিবার দুপুরে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা প্রসুতি ডলি আক্তারের স্বামী আবদুল আহাদ বিয়ানীবাজারকন্ঠকে বলেন, ‘আলট্রাসনোগ্রাম বাইরে করিয়েছি। শুনেছি যন্ত্র থাকলেও টেকনিকশিয়ান না থাকায় এটি অচল পড়ে আছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ছেলে সামিকে (৮) হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসে রোকিয়া বেগম। খেলতে গিয়ে ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল কেটে গেছে। কিন্তু জরুরী বিভাগে কোন সার্জন না থাকায় তাকে বাইরের ক্লিনিকে যেতে হয়েছে। আঙ্গুলটির এক্স-রেও করাতে হয়েছে বাইরে।

সিলেট এম এ জি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরই সিলেট বিভাগের ৫/৬ উপজেলার রোগীরা বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এ তথ্য দিয়ে

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডাক্তার মোয়াজ্জেম আলী খান বিয়ানীবাজারকন্ঠকে বলেন, ‘লোকবল সংকট ও যন্ত্রের সল্পতার কারণে হাসপাতালের সুনাম ধরে রাখা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আসছি। ’

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা: হাবিবুর রহমান বিয়ানীবাজারকন্ঠকে বলেন, লোকবল সংকট ও যান্ত্রিক সমস্যা রয়েছে। সেবাখাতের এসব সমস্যা নিরসনে জন্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।