‘প্রস্তুত স্মৃতিসৌধ’

s hইকবাল হোসেন : বিয়ানীবাজার পৌরশহরের শহীদ টিলায় ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ’ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ অবশেষে সম্পন্ন হয়েছে। বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য পুরো প্রস্তুত স্মৃতিসৌধ। অর্থনৈতিক টানাপোঁড়েন এবং নির্মাণ প্রতিষ্টানের গাফলতির কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের কাজ এতদিন থমকে ছিল।

 

এ নিয়ে ক্ষোব্দ ছিলেন উপজেলার মানুষ। তবে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্মৃতির এ চিহ্নের কাজ সমাপ্ত হওয়ায় উৎফুল্ল বিয়ানীবাজারবাসী। ১৬ ডিসেম্বরের প্রথম প্রহরে এখানে শ্রদ্ধা জানাবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ-এমনটি জানালেন উপজেলা প্রকৌশলী রামেন্দ্র হোম চৌধুরী।

 

জানা যায়, ২০১১ সালে ১ কোটি টাকা নির্মাণ ব্যায় ধরে বিয়ানীবাজারে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ প্রকল্পের কার্যাদেশ দেয়া হয়। ২০১২ সালের ২১ অক্টোবর এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আরো ২ বছর বেশী অতিবাহিত হওয়ার পরও এ প্রকল্পের মাত্র ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়।

 

যদিও কাজের বিপরীতে ৭০ লাখ টাকা উত্তোলন করে নেয় নির্মাণ প্রতিষ্টান এ.সি-কে.বি কনসোর্টিয়াম। মূলত ওই নির্মাণ প্রতিষ্টানের উদাসীনতায় বাঙ্গালীর স্বাধীকার আন্দোলনের রক্তমাখা স্মৃতিচিহ্নটি এতোদিন অযতœ-অবহেলায় পড়ে ছিল। এ প্রতিষ্টানের কর্ণধারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক জামানতের ১০ ভাগ টাকা কর্তন করে রেখে দেয়া হয় বলে উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে।

 

উপজেলা প্রকৌশলী রামেন্দ্র হোম চৌধুরী আরো জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ প্রকল্পের কিছু কাজ অসমাপ্ত কাজ রেখে ঠিকাদার কাজ ছেড়ে দেন। পরে সর্বমোট ১কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যায় সাপেক্ষে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়।

 

উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার আব্দুল কাদির বিয়ানীবাজারকন্ঠকে জানান, দু’টি স্থানকে বধ্যভূমি ও গণকবর হিসেবে নির্ধারণ করেছিল পাকিস্তানী বাহিনী। প্রথমটি থানাটিলার পার্শ্ববর্তী কাঁঠালতলা যা বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের কমপ্লেক্সের ভেতরে পড়েছে। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে মাত্র কয়েকশ গজ দূরের রাঁধু টিলা। বিয়ানীবাজার-সিলেট সড়কের পাশের টিলাটি বর্তমানে শহীদটিলা হিসেবে পরিচিত। যেখানে এখন উপজেলার কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। ধরিগতিতে হলেও এ প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হওয়ায় তিনি খুশি বলে জানান।

 

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযুদ্ধা আতাউর রহমান খান বিয়ানীবাজারকন্ঠকে বলেন, বর্তমান থানা টিলার পাশে অবস্থিত সড়ক ও জনপথ বিভাগের নয়নাভিরাম বাংলোটিতে অবস্থান নেয় পাকিস্তানী বাহিনী। শতাধিক লোকের মৃত্যু, অগণিত নারীর অব্যক্ত বেদনা আর ইতিহাসের বর্বরোচিত নানা ঘটনার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই ডাকবাংলোটি। এটি পরিণত হয়েছিল বাঙালিদের হত্যা নির্যাতনের ক্যাম্প ও বাঙালি নিরীহ নারীদের নির্যাতন কেন্দ্র। ডাকবাংলোর নির্যাতন পর্ব শেষ হলে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে পাঠিয়ে দেয়া হত শহীদ টিলায়। তাই বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত শহীদ টিলায় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় বিয়ানীবাজারবাসীর যুদ্ধস্মৃতির চাকচিক্য আরো বহুগুণ বেড়ে যাবে।

 

বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রশাসক তফজ্জুল হোসেন বিয়ানীবাজারকন্ঠকে জানান, যেখানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ হয়েছে সেখানেই পাকিস্তানীরা নির্মমভাবে হত্যা করে তাঁর পিতা শহীদ তাহির আলী ও ভাইদের। তাই স্মৃতিমাখা শহীদ টিলায় নয়নাভিরাম প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ায় তাঁর পিতা ও ভাইদের আত্মা শান্তি পাবে।