বিয়ানীবাজারে জ্বালানী গ্যাস সংকট প্রকট : গ্যাসের চুলা জ্বলছে না

JUজুনেদ  ইকবাল : বিয়ানীবাজারে জ্বালানী গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে। গ্রামাঞ্চলে শীতের সকালে গ্যাসের চুলা জ্বলছে না। মোটা অংকের টাকা খরচ করে গ্যাস সংযোগ নিয়েও এখন অনেক গ্রাহক পূর্বের ন্যায় সেকেলে পদ্ধতিতে রান্না করছেন। তড়িৎ গতিতে পাইপ লাইন সংস্কার করা না হলে উপজেলার প্রায় ৫ হাজার গ্রাহকের অধিকাংশের চুলোয় আগুন জ্বলবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেছেন, গ্যাসের চাপ কম হওয়ায় সংযোগ থাকার পরও পিক আওয়ারে তারা গ্যাস ব্যবহার করতে পারছেন না। যথারীতি বিল পরিশোধ করার পরও তারা বিকল্প হিসাবে কাঠ ব্যবহার করছেন। অপরিকল্পিতভাবে গ্যাস লাইন স্থাপন ও দু’টি সিএনজি স্টেশন চালু করার ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় অফিস সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রটি জানায়, গ্রাহক সংখ্যা যতই বৃদ্ধি পাবে ততই বিয়ানীবাজারের গ্যাস গ্রাহকদের দূর্ভোগ বাড়বে। এদিকে কর্তৃপক্ষ আগেভাগে বিষয়টি অনুধাবন করে বিগত বৎসর থেকে নতুন গ্যাস সংযোগ নেওয়ার আবেদন করতে গেলে গ্রাহকেরা গ্যাসের চাপ জনিত কারনে চুলা না জ্বললে কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করতে পারবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গিকারনামা নিচ্ছেন। এ নিয়ে জালালাবাদ গ্যাসের বিয়ানীবাজার অফিসে গ্রাহকদের সাথে দায়িত্বশীলদের বাক বিতন্ডা চলছে প্রতিনিয়ত। সূত্রমতে, বিয়ানীবাজার উপজেলায় ৩ হাজার গ্রাহক গ্যাস ব্যবহার করে আসছেন। জালালাবাদ গ্যাস টিএন্ডডি সিস্টেম এর আওতাধীন গ্যাসের গ্রাহকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। গ্যাস অফিস সূত্র জানিয়েছে, প্রতি বৎসর ৪ থেকে ৫ শ গ্রাহক বাড়ছে। গ্রাহকের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে গ্যাস সংকট এমন ভাবে প্রকট আকার ধারন করছে যে, আগামী ১০ বৎসরের মধ্যে বিয়ানীবাজারের গ্রাহকেরা মারাত্বক ভাবে জ্বালানী গ্যাসের সংকটে পড়বেন। জালালাবাদ গ্যাসের বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গ্রাহকেরা ভূগান্তির মধ্যে পড়ছেন। গত শীত মৌসুমে পাইপ লাইনের শেষের দিকের অনেক গ্রাহক গ্যাস ব্যবহার করতে পারছেনা বলে সূত্রটি স্বীকার করেছে। শীত মৌসুমে পাইপ লাইনে কনডেনসেট জমে যাওয়ার কারনে গ্যাসের চাপ অনেকটা কমে যায়। ফলে গ্রাহকদের এ ভূগান্তিতে পড়তে হয়। সূত্রটি জানায়, বিয়ানীবাজারে ইদানিং দু’টি সিএনজি স্টেশন চালু হওয়ায় গ্যাস সংকট আরো ব্যাপক আকার ধারন করেছে। গ্যাসের পাইন লাইন আয়তনে ছোট হওয়ায় অবস্থার সৃষ্ঠি হয়েছে বলে আবাসিক প্রকৌশলীর ধারনা। তবে রেশনিং পদ্বতিতে দু’টি সিএনজি স্টেশন চালু থাকায় কাছের গ্রাহকেরা তেমন অসুবিধার সম্মূখিন হচ্ছেন না। আবাসিক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিয়ানীবাজারের গ্যাস পাইপ লাইন নেটওয়ার্ক আপগ্রেশনের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। তিলপারা ইউনিয়নের অনেক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেছেন, সকাল বেলা তাদের চুলায় আগুন জ্বলে না। তাই তারা বিকল্প হিসেবে কাঠ ব্যবহার করতে হচ্ছে। দুপুর ১২টার পর থেকে মোটামুটি অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে আসে।
বিয়ানীবাজার উপজেলায় রয়েছে দু’টি গ্যাস কুপ। কুপ দু’টি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। আর এসব গ্যাস দেশের চাহিদা পুরনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। বিয়ানীবাজারে গ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে সরাসরি বিয়ানীবাজারের গ্যাস দিয়ে বিয়ানীবাজারবাসীকে তাদের চাহিদা পুরনের ব্যবস্থা করে দিলে এসব সমস্যার সম্মূখিন হবেনা বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ ইং সনে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন টিএনডি সিস্টেম লিঃ বিয়ানীবাজারে গ্যাস পাইপ লাইন স্থাপন করতে গেলে ধরা পড়ে ব্যাপক অনিয়মের। সে সময় বিয়ানীবাজার উপজেলার সচেতন নাগরিকরা সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদার অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে বিয়ানীবাজারে মেইন লাইনে ৬ ইঞ্চি পাইপের স্থলে স্থাপন করেন ৪ ইঞ্চি পাইপ এবং বিভিন্ন স্থানে বসানো হয় ৩ ইঞ্চি পাইপের স্থলে ২ ইঞ্চি পাইপ। তখনকার সময় সরকার বিষয়টি নজরে নিয়ে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহন করলে বিয়ানীবাজারে গ্যাস নিয়ে এসব সমস্যার সম্মূখিন হতে হতো না উপজেলাবাসীকে এ মন্তব্য করলেন আন্দোলনের সাথে জড়িতরা।