এপিলেট ডিভিশনের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আবার রিভিউ পিটিশন করলেন পৌরপ্রশাসক তফজ্জুল হোসেন

tofoইকবাল হোসেন : বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রশাসক তফজ্জুল হোসেন সুপ্রীম কোর্টের এপিলেট ডিভিশনের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার রিভিউ পিটিশন করেছেন।এ কারণে দীর্ঘ ১৫ বছরের আইনি লড়াই শেষ হয়েও হলো না শেষ…। এদিকে রিভিউ শুনানী না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রণালয় তফজ্জুল হোসেনকে বহিস্কার করে স্থানীয় ইউএনও’কে পৌরপ্রশাসকের দায়িত্ব দিচ্ছে কি-না তা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল। তবে মন্ত্রণালয় আন্তরিক হলে তফজ্জুলকে বহিস্কার করতে রিভিউ আবেদন কোন অন্তরায় হবে না। বিজ্ঞ আইনজীবীদের সাথে কথা বলে এমন বক্তব্য পাওয়া গেছে।

সূত্রমতে, গত ২০ জানুয়ারি প্রধান বিচাপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের বেঞ্চ তফজ্জুল হোসেনের আপিল মামলা খারিজ করে যুগান্তকারি রায় প্রদান করেন। ৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতিসহ অপর ৩ বিচারপতির স্বাক্ষরযুক্ত পূর্ণাঙ্গ রায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পৌছে। ধারাবাহিকভাবে গত রোববার পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পৌরশাখায় প্রেরণ করা হয়। সেখান থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রীর নুরুল ইসলাম নাহিদের গ্রীণসিগন্যাল পেলে মন্ত্রণালয় দ্রুত তফজ্জুল হোসেনকে বহিস্কার করে স্থানীয় ইউএনও’কে পৌরপ্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করতে পারতো। তবে রহস্যজনক কারণে মন্ত্রণালয় তা করেনি।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার সুপ্রীম কোর্টের এপিলেট ডিভিশনের দেওয়া রায় পুণরায় রিভিউ (৭০/২০১৬) চেয়ে আবেদন করেছেন পৌরপ্রশাসক তফজ্জুল হোসেন। বাদিপক্ষের আইনজীবি হচ্ছেন এডভোকেট সুফিয়া খাতুন। রিভিউ শুনানী বিলম্বিত হলে পৌরবাসী আবারও নির্বাচন থেকে অনেকদূর পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একজন আইন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, তফজ্জুল হোসেনের রিভিউ আবেদন মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। অতএব মন্ত্রণালয় যেকোন দিন তফজ্জুলকে বহিস্কার করে সরকার মনোনীত একজনকে পৌরপ্রশাসক নিযুক্ত করতে পারবে।
বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচন আদায় সংগ্রাম পরিষদ আইনি কমিটির এক নেতা বলেছেন, শোনেছি সহসাই পৌরসভা নির্বাচন করতে চান শিক্ষামন্ত্রী। বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে যে অবস্থায় ফাইল আছে, শিক্ষামন্ত্রী একটু নাড়া দিলেই পৌরপ্রশাসক তফজ্জুল বহিস্কার হবেন। নির্বাচন হওয়া না হওয়ার বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে শিক্ষামন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে বিশস্ত একটি সূত্র দাবি করেছে, তফজ্জুল হোসেনের রিভিউ তার বহিস্কার আদাশে কোনরূপ প্রভাব ফেলবে না। আগামী সপ্তাহের যেকোন দিন নতুন পৌরপ্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
জানা যায়, ২০০১ সালের ২৯ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিয়ানীবাজার পৌরসভা গঠিত হয়। তখন প্রশাসক হিসাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করলে মন্ত্রণালয়ের আদেশের উপর হাইর্কোটে রীট পীটিশন দায়ের করেন বিয়ানীবাজার সদর ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান তফজ্জুল হোসেন। তার দায়ের করা রীট পীটিশন (২৩৭৫/২০০১) এর আলোকে আদালত পৌরসভার প্রশাসক হিসাবে তফজ্জুল হোসেনকে দায়িত্ব পালনের আদেশ দেন। ২০০৯ সালের ১৩ জুলাই পৌর প্রশাসক তফজ্জুল হোসেনের রীট পীটিশনটি আদালত বাতিল করেন। এরপর তিনি আবারও সুপ্রীম কোর্টে সিভিল পিটিশন (১৪২৫/০৯) দায়ের করেন। বুধবার ৬০১/০৯ সিভিল আপিল মামলা খারিজ করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। এই রায়ের মধ্য দিয়ে ১৫ বছর থেকে ভোটাধিকার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত পৌরবাসীর প্রাথমিক বিজয় সূচিত হয়।