বিয়ানীবাজারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির হিড়িক

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

সুফিয়ান আহমদ : বিয়ানীবাজারে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চুঁরির হিড়িক পড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত উপজেলার ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। যার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন উপজেলার শিক্ষক সমাজসহ সচেতন মহল। তারা এই সব চুরির ঘটনা বন্ধের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেফতারেরও দাবী জানিয়েছেন। এদিকে শুক্রবার ভোরে একটি সংঘবদ্ধ চোঁরের দল উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের মাথিউরা কেন্দ্র সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে প্রবেশ করে একটি ডেক্সটপ কম্পিউটারসহ জরুরী জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এর সাথে তছনছ করে দেয় বিদ্যালয়ের জরুরী কাগজপত্র। জুমার নামাজের সময় এলাকাবাসী এসে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভাঙ্গা দেখে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফৌজিয়া সুলতানাকে খবর দেন। তিনি খবর পেয়ে সাথে সাথে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করলেও থানায় কোন অভিযোগ দেন নি। তবে এই ঘটনায় এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী সুমনের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর সাথে তারও ইন্ধন থাকতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছেন।
অপরদিকে উপজেলার উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এসব চুঁিরর ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি আখ্যা দিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ জাফরী বিয়ানীবাজারকণ্ঠকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের এলাকায় এই রকমভাবে বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তিনি বলেন, এসব কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় এগুলো পরিকল্পিত ঘটনা। কেননা পৌরশহরের পিএইচজি উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি বিদ্যালয়ে চুরি ও নাশকতার মতো ঘটনায় যখন কাউকে আটক করা হয় না, তখন তো অন্যান্য বিদ্যালয়ে এসব চুরি ও নাশকতার আশংকা থেকেই যায়। তিনি এসব ঘটনা রোধ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘঠিত চুরির ঘটনায় দায়ী চোঁরদের গ্রেফতারের দাবী জানান।

এব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জুবের আহমদ বিয়ানীবাজারকণ্ঠকে জানান, চুরির ঘটনায় আমরা কোন অভিযোগ পাই নাই। তবে আমরা পুরাতন রেকর্ড দেখে চোঁরদের সনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরীদের বিষয়ে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের আরো কঠোর হতে হবে। কেননা বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরীরা ঠিকমতো তাদের দায়িত্ব পালন না করার কারণেই এই সব চুরির ঘটনা ঘটছে। তিনি চোঁরদের শীর্ঘ্রই সনাক্ত করা হবে জানিয়ে এবং মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের ধারণা ঠিক নয় জানিয়ে বলেন,উপজেলায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কোন অবনতি ঘটেনি।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ও শনিবার ভোরে উপজেলার মুল্লাপুর ইউনিয়নের কটুখালিপার
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পৌরশহরের বিয়ানীবাজার মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একদিনের ব্যবধানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। এসময় চুরের দল বিদ্যালয়ের কম্পিউটারসহ জরুরী জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। তবে এই ঘটনায় কাউকেই আটক করা সম্ভব হয় নি। যার কারণে এক সপ্তাহের ব্যবধানে গতকাল শুক্রবার ভোরে আবারো উপজেলার মাথিউরা কেন্দ্র সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটলো। এসময় চোঁররা বিদ্যালয়ের কম্পিউটার চুরি করে নিয়ে যায়। তবে এই ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় কোন অভিযোগ দায়ের হয় নি।