২ মাস ধরে রাস্তার পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ও কালভার্টের মূখ বন্ধ

BR 11
এ.জে লাভলু, বড়লেখা্ প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একটি পরিবার কর্তৃক পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ও কালভার্টের মূখ বন্ধ করে দেয়ায় ২ মাস ধরে জনসাধারণের চলাচলের একটি সরকারী রাস্তা বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এতে এলাকার বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। রাস্তার জলাবদ্ধতা নিরসনে এলাকাবাসী ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দাসেরবাজার-লঘাটি এলজিইডি রাস্তাটি দাসেরবাজার ইউনিয়নের মহারাণী, টুকা, গুলুয়া, মালিপাড়া ও লঘাটি গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অন্তত দেড় হাজার শিক্ষার্থী মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজে যাতায়াত করে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী ফকিরবাজার, হাকালুকি ও বিয়ানীবাজার এলাকার লোকজনও এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। উক্ত রাস্তার পানি নিষ্কাশনের জন্য লঘাটি গ্রামের দৌলা মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন একটি ড্রেন ও কালভার্ট ছিল। প্রায় তিন মাস আগে দৌলা মিয়ার পরিবারের লোকজন ড্রেন ও কালভার্টটির মুখ বন্ধ করে দেয়ায় গত ২ মাস ধরে রাস্তাটির প্রায় ২শ’ ফুট এলাকা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। এতে এলাকার লোকজন মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েন। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা পানি নিষ্কাশনের পথ খোলে দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগীরা ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন, প্রাক্তন ইউপি মেম্বার আজিজুর রহমান, বর্তমান ইউপি মেম্বার মনির উদ্দিন, আতিকুর রহমান, সুহেব আহমদ চৌধুরী, নুরুল হক রুনু, রিপন আহমদ, পাপ্পু আহমদ, জাবেল আহমদ প্রমূখ জানান, এক পরিবারের স্বেচ্ছাচারিতায় হাজার হাজার মানুষকে গত ২ মাস ধরে পানিবন্দী থাকতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে।

স্বাস্থ্য সহকারী ফাতেমা খানম বিয়ানীবাজারকণ্ঠকে জানান, এক মাস অন্তর গ্রামের আয়াজ আলীর বাড়িতে ১৮ মাস বয়স পর্যন্ত শিশু ও ১৫ থেকে ৪৯ বছর পর্যন্ত মহিলাদের টিকা দান কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের রাস্তাটি পানিতে ডুবে থাকায় শনিবার টিকা দানের নির্ধারিত দিনে শিশু ও মহিলাদের উপস্থিতি অনেক কম হয়েছে।

এ ব্যাপারে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম আবদুল্লাহ আল মামুন বিয়ানীবাজারকণ্ঠকে জানান, জনগণের দূর্ভোগ সৃষ্টির অধিকার কারো নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছেন।