বড়লেখায় যেসব স্থানে অপরাধীদের আস্তানা

br 1এ.জে লাভলু, বড়লেখা প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের বড়লেখায় চোরাচালানী, সন্ত্রাসী, চোর-ডাকাতসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডের হোতারা সীমান্তবর্তী অরণ্য, চা বাগানের লীজকৃত জবর দখলীয় টিলা আর খাসিয়া পান পুঞ্জিতে নিরাপদ বসতি গড়েছে।

এ অপরাধী সিন্ডিকেট খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, চুরি ডাকাতিসহ সীমান্ত চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে। কয়েকটি চা বাগানের লিজকৃত টিলা ভূমিখেকো সন্ত্রাসীদের জবর দখলে থাকায় বাগান মালিকের সরকার নির্ধারিত আড়াই ভাগ চা চাষ সম্প্রসারণ কর্মসূচিও বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। বাগান মালিকরা চা বাগানের ভূমি জবর দখলকারী সন্ত্রাসীদের দমনে বিজিবি’র টহল জোরদার এবং পুলিশ-বিজিবি যৌথ অভিযানের দাবী জানান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের আয়শাবাগ চা বাগানের পূর্বপার্শের ইরেরগুল নামক স্থানের ৪০-৫০ একরের একটি টিলা স্থানীয় সন্ত্রাসীরা জবর দখল করে নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালায়। এ টিলায় ১০-১২টি ঘর তৈরী করে নিরাপদ বসতি গড়ে সন্ত্রাসীরা মাদক চোরাচালান, খাসিয়াদের পানজুম দখল ও কেটে ফেলার হুমকি দিয়ে চাদা দাবী, ছিনতাই, ধর্ষণসহ নানা অপরাধ কার্মকান্ড চালাচ্ছে।
আয়শাবাগ চা বাগানের শ্রমিকরা জানায়, সন্ত্রাসীদের ভয়ে তারা এ টিলায় চায়ের পাতি তোলাসহ কোন কাজেই যেতে সাহস পায় না। বাগানের পরিচালক এমএ জামান সুহেল বাগানের লীজকৃত ভূমি সন্ত্রাসীদের বেদখলে থাকার সত্যতা স্বীকার করে জানান, স্থানীয় ফারুক উদ্দিন ফারই, মাসুক উদ্দিন ও তাদের লোকজন বাগানের টিলায় সন্ত্রাসীদের আস্তানা তৈরী করে দিয়েছে।তারা অসংখ্য চা গাছ ও ছায়াবৃক্ষ উপড়ে ফেলে এবং চা শ্রমিকরা কাজ করতে গেলে দেশীয় অস্ত্রেসস্ত্রে ধাওয়া করায় শ্রমিক সেদিকে পা বাড়ায় না। বাগানের লীজকৃত টিলা সন্ত্রাসীরা জবর দখল করায় সরকার নির্ধারিত মোট ভূমির আড়াই ভাগ চা চাষ সম্প্রসারণ কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বাগানের পক্ষ থেকে থানা পুলিশ ও উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এদিকে কেরামতনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মারুফ হাসান অভিযোগ করেন, বাগানের জমি দখল করে সন্ত্রাসীরা অপরাধের স্বর্গরাজ্য তৈরী করেছে। তার বাগানের লিজকৃত একটি বিশাল টিলার চা গাছ কেটে এবং ছায়াবৃক্ষ পাচার করে দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় সন্ত্রাসী জবর দখলে রেখেছে। ফলে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী চা চাষ সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

ADD 444সূত্র জানায়, ইতিপূর্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এসব সন্ত্রাসীদের হাতে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পাহাড়ি দূর্গম এলাকায় তৈরী করা নিজেদের আস্তানায় আত্মগোপণ করায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অপরাধ দমনে অন্ধকারে থাকতে হয়।

 

বড়লেখা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান চা বাগানের জবর দখলীয় টিলায় সন্ত্রসীদের অবস্থানের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, উপজেলার পূর্বে সীমান্তবর্তী অরণ্য আর পশ্চিমে হাকালুকি হাওর থাকায় ভৌগলিক কারণে অনেক সময় সন্ত্রাসীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। তবে পুলিশ এসব অবস্থানে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে।