আম-কাঁঠালীঃ তখনও ছিল এখনও আছে

follllllমিলাদ জয়নুল :: আম-কাঁঠালী। গ্রামীণ এলাকার একটি পরিচিত শব্দ। নির্দিষ্ট মৌসুমে আম-কাঁঠালী নিয়ে সর্বত্র তোড়জোড় শুরু হয়। বর্তমানে আম-কাঁঠালীর মৌসুম চলছে। বিবাহিত মেয়ের পরিবারে আম-কাঁঠালী পৌছানোর ব্যস্ততা শুরু হয়েছে অভিভাবকদের মাঝে। মূলত সিলেট অঞ্চলকে ঘিরেই আম-কাঁঠালীর রেওয়াজ দেখা যায়। মেয়ের শ্বশুর বাড়ীতে আম-কাঁঠালী না পৌছালে যেন জাত-মান দুটোই যায়। প্রাচীন এই রেওয়াজটি বর্তমান আধুনিক সময়েও অধিকহারে বিস্তৃত হয়েছে। আম-কাঁঠালীর রেওয়াজ তখনও ছিল এখনও আছে।

 

বর্তমানে আম-কাঠালীর মৌসুম চললেও রমজান মাস চলছে। রমজানে আবার সিলেটজুড়ে মেয়ের বাড়িতে ইফতারী প্রদান করা হয়। তাই একই সময়ে আম-কাঠালী ও ইফতারীর মৌসুম চলমান থাকায় ঘুম নেই এখানকার বিয়ে হওয়া মেয়েদের বাবার বাড়ির পরিবারের সদস্যদের। প্রতিদিন গাড়ি বোঝাই করে মেয়ের বাড়ি পাঠাতে হচ্ছে ইফতারী-আমকাঠালী।

 

সিলেট অঞ্চলে কবে থেকে এ রেওয়াজ চালু হয়েছে, তার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য কারো কাছে নেই। বয়োবৃদ্ধ অনেক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করে আম-কাঁঠালী দেয়ার প্রবণতা জানার চেষ্টা করা হলেও কেউই নির্দিষ্ট কিছু বলতে পারেন নি। কথিত আছে, বহু বছর পূর্বে এক সৌখিন পিতা তার মেয়ের বাড়ীতে বেশ ঘটা করে আম-কাঁঠালী নিয়ে যান। সেই থেকে এ প্রবণতা শুরু হয়। বর্তমানে এটি অনেকটা বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়েছে। স্বচ্ছল পরিবারের জন্য এটি সৌখিন রেওয়াজ হলেও নিম্নবিত্ত কিংবা দরিদ্র পরিবারের জন্য আম-কাঁঠালী গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সচেতন অনেকে আম-কাঁঠালীর এ বিষয়টিকে কুসংস্কার হিসেবে আখ্যায়িত করলেও মেয়ের শ্বশুর বাড়ীতে এটি না পৌছালে নিজেকে ছোট মনে করেন অনেক অভিভাবক। তাই তারা বাধ্য হয়েই মেয়ের বাড়ীতে পৌছে দেন মৌসুমী রসালো ফল।

 

জানা যায়, আম-কাঁঠালী পৌছানোর আগে মেয়ের শ্বশুর বাড়ীতে তারিখ জানানো হয়। সেখানে চলে প্রীতিভোজের মহা আয়োজন। সব ধরণের ফলমূল গাড়ীতে বোঝাই করে পরিবারের সদস্যদের জন্য কাপড় চোপড় নিয়ে বেশ ঘটা করেই যাওয়া হয় মেয়ের শ্বশুর বাড়ীতে। সেখানে আবার প্রীতিভোজের পর আম-কাঁঠালী নিয়ে আসা অতিথিদের ফিরতি কাপড় চোপড় দেয়া হয় অনেক উচ্চবিত্ত ধনাঢ্য পরিবারে। মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্ত পরিবারে এতসব ধূমধাম না থাকলেও আয়োজন থাকে চোখে পড়ার মতো। গাড়ীতে বোঝাই করা হয় আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, কমলা, আপেল, মুড়ি, চিড়া, মাল্টাসহ সবরকমের রসালো ফল, সাথে মিষ্টি, জিলাপীতো রয়েছেই।

SMART ! মেয়ের বাড়ীতে আম-কাঁঠালী দেয়ার জন্য পৌর শহরের আজির মার্কেটে কাঁঠাল ক্রয় করতে আসা এবাদুর রহমান (৫২) বিয়ানীবাজারকণ্ঠকে জানান, মাত্র ৩ মাস আগে তার মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। মেয়ে বাড়িতে আম-কাঁঠালী দেয়ার জন্য সব মিলিয়ে তার বাজেট ২৫ হাজার টাকা। এ টাকাও তিনি সংগ্রহ করেছেন হালের বলদ বিক্রি করে। তিনি নিজেও জানাতে পারেননি কবে থেকে আম-কাঁঠালী দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুধু জানিয়েছেন, মেয়ের বাড়ীতে যেমন করেই হোক এটি পৌছে দিতে হবে।

 

তবে তিনি জানালেন, ২ বছর আগে তার বড় ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। সেই ছেলের সম্মানে তার পরিবারেও পুত্রবধূর অভিভাবকরা আম-কাঁঠালী দেয়ার তারিখ জানিয়েছেন। আম-কাঁঠালীর এসব রেওয়াজ সম্পর্কে জানতে চাইলে এড. আমান উদ্দিন জানান, সচেতন মহলের অনেকেই একে কুসংস্কার বলেন। কিন্তু আম-কাঁঠালী দেয়া নেয়ার ক্ষেত্রে এসব নীতিবাক্য হারিয়ে যায়।