বিয়ানীবাজারে চালকদের হাতে ভূয়া লাইসেন্স

মিলাদ জয়নুল : বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রায় দুই সহস্রাধিক মোটরযান চালক ভূয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করে গাড়ি চালাচ্ছে। অথচ এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কোন তৎপরতা নেই বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের।

 

 

উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ড্রাইভারদের অনভিজ্ঞতা এবং ভূয়া লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালানো-এমন মন্তব্য নিরাপদ সড়ক চাই’র সহ সভাপতি ও প্রভাষক মো: জহির উদ্দিনের।

 

 

অর্থের বিনিময়ে বিআরটিএ’র এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীই বিয়ানীবাজারে এসব ভূয়া লাইসেন্স ইস্যু করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর বিআরটিএ থেকে ভূয়া লাইসেন্স সংগ্রহ করে উপজেলার সর্বত্র ছড়িয়ে দেন জনৈক আব্দুল করিম। তাই বিয়ানীবাজারে ভূয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সগুলোতে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে অনেকেই ‘করিম লাইসেন্স’ বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। সপ্তাহে দু’দিন সিলেট নগরী থেকে বিয়ানীবাজারে আসেন উক্ত আব্দুল করিম। অভিযোগ ওঠেছে, এসব ভূয়া লাইসেন্স আবার সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করেন সিএনজি ফোরষ্ট্রোক চালকরা।

 

 

 

উপজেলায় প্রতি বছর গড়ে ছোট বড় শতাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে বলে সড়ক দূর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করা সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই। বিআরটিএ’র হিসাবে ভূয়া লাইসেন্সধারী চালকের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণের চেয়ে এখানে অর্থই মুখ্য।

 

 

 

টাকার বিনিময়ে কিংবা আব্দুল করিমের মাধ্যমে সহজেই এখানকার চালকরা লাইসেন্স পেয়ে থাকেন। অবশ্য এসব অভিযোগ নাকচ করে সিএনজি ফোরষ্ট্রোক উত্তর বাজার শাখার সভাপতি আজমল হোসেন বলেন,-‘প্রশিক্ষণ থাকলে লাইসেন্স গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাছাড়া একটি লাইসেন্স পেতে চালকদের যে বিড়ম্বনা পেতে হয়, তা বলা কঠিন।’

 

 

 

সিলেট বিআরটিএ’র হিসাবমতে দেখা গেছে, বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রায় ছয় হাজার রেজিস্ট্রিকৃত মোটর যানের বিপরীতে সহস্রাধিক চালককে বিআরটিএ থেকে যোগ্যতার মাপকাঠিতে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ড্রাইভারদের যোগ্যতা দেখার দায়িত্ব বিআরটিএ’র হলেও এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কোন ড্রাইভিং স্কুল পরিচালিত হয়না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সিনিয়র চালকদের কাছে মোটরযান চালানো শিখে কিংবা পর্যাপ্ত শিক্ষা না নিয়েই গাড়ি চালানো পেশায় যোগ দিচ্ছে অনেক যুবক। আর এ যাত্রায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে সিএনজি, লাইটেস এবং কার চালকরা।

 

 

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, অনেক সিএনজি চালক প্রবাস থেকে দেশে ফিরে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন গোছাতে সিএনজি চালানোর পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। লাইটেস এবং কার চালকরা ‘ওস্তাদের কাছ থেকে’ শিক্ষা নিয়েই ড্রাইভিং পেশায় জড়িয়ে পড়ে। ফলে সিএনজি, লাইটেস এবং কারই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বলে অভিজ্ঞজনরা মনে করেন। উপজেলা মাইক্রোবাস চালক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বলেন,-‘২-১জন চালক হয়তো ভূয়া লাইসেন্স ব্যবহার করতে পারে। তবে ঢালাও অভিযোগ ঠিক নয়।’

 

 

 

অনুসন্ধানে আরোও জানা যায়, পৌর শহরের উত্তর বাজারে সিএনজি, লাইটেস এবং কার চালকদের শতকরা ৯০ জনেরই ভূয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। পেশাগত কারণে তারা এসব ভূয়া লাইসেন্সের ব্যবহার করেন যত্রতত্র। দক্ষিণ বাজারেও একই অবস্থা লক্ষ করা গেছে। তাছাড়া টিকরপাড়া, চারখাই, রামধা, দুবাগ, মেওয়া, ঈদগাহ বাজার, বৈরাগীবাজার, নালবহর, কুড়ারবাজার, বারইগ্রাম, দাসউরা এবং জলঢুপ বাজারে অবস্থিত মোটর যান স্ট্যান্ডের আওতায় থাকা চালকদের দুই তৃতীয়াংশেরই ভূয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে।