বঙ্গবন্ধু যেদিন বিয়ানীবাজার এসেছিলেন

মিলাদ জয়নুল :: ছয় দফা’র দাবীতে উত্তাল দেশ। রাজধানী ঢাকার ন্যায় জেলা এবং উপজেলা পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে এ আন্দোলনের রেশ। বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতারা ছয় দফার দাবীতে দেশের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন।আর মানুষকে জানিয়ে দিচ্ছেন-ছয় দফা কি এবং কেন? এই বিষয়টি বিয়ানীবাজারবাসীকে জানাতে ১৯৬৯ সালের শেষ দিকে জাতীয় ৭ নেতাসহ বঙ্গবন্ধু বিয়ানীবাজার এসেছিলেন। তবে দীর্ঘদিন পূর্বে তার এই আগমনের দিন ও তারিখ কেউই সঠিক করে জানাতে পারেনি।সিলেট জেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঢাকা থেকে সড়ক পথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরাসরি সিলেটে এসে পৌঁছান। সিলেট থেকে আবার সড়ক পথে তিনি বিয়ানীবাজারে পৌছে সোজা চলে যান তৎকালীন সময়ে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধক্ষ্য নিছফর আলী দারগার গ্রামের বাড়ী পাতন গ্রামে।সেখানে কিছু সময় বিশ্রামের পর তিনি সঙ্গীয় রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে বিয়ানীবাজার সদরের পোষ্ট অফিস মোড়ে নির্মিত জনসভাস্থলে এসে পৌঁছান। জনসভাস্থলে তখন ৭/৮ হাজার মানুষের সরব উপস্থিতি। মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত মৌলভী মোবারক আলী এম.এল.এ, প্রমথ নাথ দাস, সৈয়দ ইমদাদ এবং মুজাফফর আলী মাষ্টারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বঙ্গবন্ধু মঞ্চে অবস্থান নিয়ে অন্যান্য স্থানীয় অতিথিদের দেখে পুলকিত হয়ে উঠেন।এম.এ. আজিজের সভাপতিত্বে এবং আব্দুল খালিক (ইংলিশ খালিক) এর পরিচালনায় সভার কার্যক্রম শুরু হয়। বক্তারা সকলেই ছয় দফা কি, কেন এবং এর তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য দেয়া শুরু করেন।সবার শেষে ডাকা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। মাইকের সামনে এসেই তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে চারদিকে কয়েকবার তাকান বঙ্গবন্ধু। এরপর যথারীতি সম্বোধন পর্ব শেষ করে বঙ্গবন্ধু তার দরাজ কন্ঠে বলে উঠেন- ”বিয়ানীবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে আমার মনে হচ্ছে এটি যেন পাশ্চাত্যের কাশ্মির।ভাইসব, বাঙ্গালীকে কেউ কখনও দাবায়ে রাখতে পারবে না। বাঙ্গালী কারো কলোনী, দাস হয়ে থাকতে চায় না।” চমকপ্রদ এ দুটি কথা বলেই বঙ্গবন্ধু শেষ করেন তার সেদিনকার ঐতিহাসিক বক্তব্য। উপস্থিত জনতা তখন মুহুর্মূহু শ্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলে বিয়ানীবাজার।তারা বলতে থাকে-‘বঙ্গবন্ধু এগিলে চল, আমরা আছি তোমার পাশে।’ বিয়ানীবাজারবাসীর সেই মায়াভরা শ্লে¬াগান আর আত্মীয়তার কথা দীর্ঘদিন স্মরণ রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। বিয়ানীবাজারবাসীও তাকে আজও ভুলেনি।