শিক্ষক মতিউর রহমান মাহমুদ স্মারকগ্রন্থ’র জন্য লেখা আহবান

আলোকিত মানুষের খোঁজে, আলোকস্নাত সমাজ সৃষ্টির মানষে যে সংখ্যা সীমাবদ্ধ গুণীজন ছড়িয়ে আছেন দেশ ব্যাপী- তেমনি এক আলোকিত মানুষ ছিলেন মতিউর রহমান মাহমুদ। নিজভূম শেকড়ের মৌল দায়বোধ যাঁকে বিলেত প্রবাসী হতে দেয়নি। তেমনি দেয়নি শহর কেন্দ্রীক অবস্থান। আজীবন পরার্থপরতার ভীড় ঠেলে গ্রাম-বাংলায় শিক্ষাবিস্তার এবং সুশীল সমাজ প্রতিস্থাপনার স্বপ্ন তাঁকে আটকে রেখেছিল শিক্ষক শিরোণামে।

সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানাধীন পাতন গ্রামের ‘দেওয়ান কটেজ’-এ ১৫ জুন ১৯৪৯ সালে জন্ম গ্রহন করেন। পাতন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু হয় ১৯৫৫ সালে। ১৯৬১-তে লাউতা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৬৪ সালে জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি হন। সেখান থেকেই এস.এস.সি-তে উত্তীর্ণ হন ১৯৬৫ সালে। এম.সি. কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস করেন ১৯৬৯ সালে এবং বি.এড করেন চট্টগ্রাম টিটি কলেজ থেকে। ১৯৬৯ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন বিয়ানীবাজারের পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ে। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে পাতন-আব্দুল্লাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেন। অবৈতনিক শ্রমে ১৯৭৯ ইংরেজি পর্যন্ত নারীশিক্ষা সম্প্রসারণে অনেক প্রতিকূলতাকে ডিঙ্গিয়ে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্ণাঙ্গ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। লাউতা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদেন ১৯৭৯ সালে। ১৯৮৭ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ১৯৯৩-২০১০ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।
সামাজিক দায়বদ্ধতার সচেতনতা নিয়ে নিজের একটি স্বচ্ছ অবয়ব ছিল তার অঞ্চল জুড়ে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। সাম্যবাদী রাজনীতির আদর্শের কারণে কোন স্বীকৃতি বা সম্মাননা ফিরিয়ে দিতেন বিনয়ে। বিভিন্ন কারণে তার উপর অনেক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল। যে গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- পাতন মাদ্রাসার সেক্রেটারী ১৯৮৮ সালে। পাতন-আব্দুল্লাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন ১৯৮৯ সালে। দীর্ঘদিন সে দায়িত্ব পালন করেন। বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সহযোগী থাকায় নির্বাহী সদস্য হন ১৯৯৫ সালে। ২০০১-৩ এবং ২০০৩-৪ সালে মোল্লাপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালে বিয়ানীবাজার উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে সংগঠিত করে এক এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষাগ্রহণপূর্বক অত্র উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা যাচাই এবং তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির জন্য ‘শিক্ষা সোপান’ নামক সংগঠনের সৃষ্টি হয় এবং জন্মলগ্ন থেকে দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের চাকুরীজীবন শেষে যে অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হন, তা উত্তরণকল্পে ২০০২ সনে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘শিক্ষক কল্যাণ ট্রাষ্ট। সে ট্রাষ্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাষ্ট নামক অভিন্ন পাঠ্যসূচীর আওতাভুক্ত সংগঠনেরও সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৯ সাল থেকে আমৃত্যু শিক্ষক সমিতি, বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের ঐতিহ্য ভিত্তিক সংগঠন ‘বাংলাজ হেরিটেজ’এর উপদেষ্টাভুক্ত হয়েছিলেন ২০০২ সালে। কথাসাহিত্যিক এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন ‘মুক্তবাংলা পত্রিকার সম্পাদক, আকাদ্দস সিরাজুল ইসলামের বড় মেয়ে সুফিয়া আখতারের সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন ১৯৬৯ ইংরেজিতে। এই আলোকিত মানুষ ২০শে জুন,২০১৩ ইংরেজীতে মৃত্যুবরণ করেন।
একটি গ্রামীণ অবকাঠামোর মধ্যে বসবাস করেও প্রজন্ম প্রগতির মেল-বন্ধনে একজন আদর্শ শিক্ষক ও শিক্ষা এবং তদসম্পর্কিত সংগঠনগুলোর একজন সফল সংগঠকের চিত্রণ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর জীবনসমগ্রে। এই গুণীজনের ‘স্মারক গ্রন্থে’র জন্য আপনার একটি লেখা প্রবন্ধ, স্মৃতিচারণ, কবিতা, মন্তব্য ইত্যাদি গ্রন্থটিকে সমৃদ্ধ করবে। নিম্নের ঠিকানায় লেখা পাঠাবার শেষ তারিখ ৩০শে ডিসেম্বর ২০১৬।

বিনীত
আবু মকসুদ,সম্পাদক
লেখা পাঠাবার ঠিকানা:
প্রযত্নে, ওয়ালি মাহমুদ
পাতন-৩১৭০, বিয়ানীবাজার, সিলেট।
সেলফোন: +৮৮০ ০১৭০৩ ৪০১০৪০
E-mail: walimahmud@yahoo.co.uk
যুক্তরাজ্য:
মতিউর রহমান মাহমুদ স্মারক
138 BLYTHSWOOD ROAD, IG3 8SG UK
আমেরিকা:
মিজান মাহমুদ সুমন
sumon76usa@gmail.com
ফ্রান্স:
সাইফ মাহমুদ শাওন
mahmudshawan98@gmail.com