চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন : অভিষেকেই মিরাজের ৫ উইকেট

ডেস্ক :: চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৮ রান সংগ্রহ করেছে ইংল্যান্ড। দিনের শুরুর ব্যাটিং বিপর্যয় সামলে উঠার পরও মেহেদি হাসান মিরাজের সাফল্যের পর দিনটিকে বাংলাদেশেরই বলতে হচ্ছে।

টস জিতে ব্যাটিং নেয়া ইংল্যান্ডের সারাদিনে ৭ উইকেট পড়ল। যার ৫টিই পেলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। অন্যদুটি নিলেন সাকিব আল হাসান। এই দুই স্পিনারের ঘূর্ণিতেই দিনভর চোখে সর্ষে ফুল দেখলেন কুক-রুটরা। তবে এ দুজনের বাইরে অন্য কোন বোলার তেমন সুবিধা করতে না পারায় প্রথম দিনেই অলআউট হবার হাত থেকে বেঁচে যায় ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডকে খেলায় ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখেন মঈন আলি ও জনি বেয়ারস্টো।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পিচে এই টেস্টে টার্ন থাকার সম্ভাবনা আগে থেকেই ছিল। বাংলাদেশেরও আবদার ছিল টার্ন যেন থাকে। তবে সেটা একেবারেই প্রথম সেশন থেকে হবে বলে ভাবেনি কেউ।

টস জিতে পাটা পিচ দেখে নির্দ্বিধায় ব্যাটিং নেয়া অ্যালিস্টার কুক কিছুক্ষণ পরই টের পেলেন ঘূর্ণির বাস্তবতা। অভিষিক্ত মেহেদি হাসান মিরাজের অসাধারণ এক ডেলিভারিতে পরিষ্কার বোল্ড আরেক অভিষিক্ত বেন ডাকেট। এই বলটিই আগাম বার্তা বলে দিচ্ছিল পিচের। দলীয় রান তখন ১৮। এই রানেই সাকিবের ঘুর্ণিতে বোল্ড হয়ে গেলেন ইংল্যান্ডের পক্ষে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলার রেকর্ড গড়া অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকও।

২১ রানের মাথায় মিরাজের ভেল্কিতে বোকা বনে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়লেন গ্যারি ব্যালেন্স। প্রথম আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউতে সাফাল্য পায় বাংলাদেশ। এরপরও একটি মাঝারি জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেন মঈন আলী ও জো রুট। লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরে মঈন আলী একাধিকবার আউট হতে হতে বেঁচে গেলেও জো রুটকে তুলে দেন মিরাজ। ১০৬ রানের মাথায় সাকিবের দারুণ বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন বেন স্টোকস।

১০৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে যখন ইংলিশরা রীতিমতো কাঁপছে তখন হাল ধরেন মঈন আলি ও জনি বেয়ারস্টো। এই দুজনের ৮৮ রানের জুটিতে পাল্টা জবাব দিতে থাকে ইংল্যান্ড। চা-বিরতীর পর মঈন আলিকে উইকেটের পেছনে মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে চতুর্থ উইকেট তুলে নেন মিরাজ। আর বেয়ারস্টোকে পরিষ্কার বোল্ড করে নেন পঞ্চম উইকেট। নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও সোহাগ গাজীর পর বাংলাদেশের তৃতীয় কোন অফ স্পিনার হিসেবে অভিষেকের ৫ উইকেট পেলেন মিরাজ।

মিরাজ-সাকিবের মতো অন্য কোন বোলার ইংলিশদের বিপাকে ফেলতে পারলে প্রথম দিনেই হয়ত ব্যাটিংয়ে নামতে পারত বাংলাদেশ। দুই পেসার শফিউল ও কামরুল ইসলাম রাব্বি ছিলেন একেবারেই বিবর্ণ।