নগ্নতায় নমনীয় হলো ফেসবুক!

ডেস্ক : নগ্নতা ও সহিংসতা বিষয়ক পোস্টের ক্ষেত্রে খুবই কঠোর ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। কারণ এ ধরনের পোস্ট ফেসবুকের নীতিমালা বিরোধী।

কিন্তু অবশেষে নগ্নতা বিষয়ে এক প্রকার বাধ্য হয়েই এবার কিছুটা নমনীয় হয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ঐতিহাসিক বেশ কিছু ছবি নগ্নতার নীতিমালায় এনে, ফেসবুক থেকে তা মুছে ফেলায় কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে।

যেমন কিছুদিন আগে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়কার একটি ঐতিহাসিক ছবি, যা পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী, তা মুছে দিয়েছিল ছবিটিতে নগ্ন শিশু প্রদর্শিত হওয়ায়। ছবিটি ‘নাপাম গার্ল’নামে খ্যাত। নাপামে সংঘাতকালে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে নয় বছর বয়সী কিম ফুক নামক এক নগ্ন শিশুকন্যার আতংকিত হয়ে পালানোর পরিস্থিতির ছবি। ১৯৭২ সালে এই ছবিটিতে তুলেছিলেন এপির ফটোগ্রাফার নিক অ্যাট।

যুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক এই ছবিটি নরওয়ের প্রভাবশালী পত্রিকা আফটেনপোস্টেন সম্প্রতি তাদের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা করেছিল। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী আর্না সোলবার্গও তার ফেসবুকে প্রোফাইলে ঐতিহাসিক এই ছবিটি পোস্ট করেছিলেন। কিন্তু ঐতিহাসিক এই ছবিটিকে নগ্নতার নীতিমালায় এনে তা মুছে ফেলায় ফেসবুকের সম্পাদনা ভূমিকা নিয়ে তুমুল সমালোচনা করা হয়। নরওয়ের সর্বাধিক জনপ্রিয় পত্রিকার সম্পাদক বিষয়টিকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ অভিহিত করে পত্রিকাটির প্রথম পাতায় একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছিলেন ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের উদ্দেশ্যে।

এ বছরের জানুয়ারিতে ডেনমার্কের সংসদ সদস্য মেসিডিয়াস তার ক্যামেরায় তোলা বিখ্যাত ‘দ্য লিটন মারমেইড’ স্ট্যাচুর একটি ছবি তার ফেসবুক পেজে শেয়ার করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ফেসবুকের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়, এই নারী স্ট্যাচুর অনেকাংশ উন্মুক্ত থাকায় এবং তা প্রচ্ছন্নভাবে যৌনতাকে ইঙ্গিত করায় ছবিটি পোস্ট করতে দেওয়া হচ্ছে না।

১০২ বছরের পুরোনো বিখ্যাত এই স্ট্যাচুর ছবিকে ফেসবুকে নগ্নতার নীতিমালার আওতায় আনায়, বিতর্ক শুরু হয়। অবশেষে ফেসবুক নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে ছবিটি পোস্ট করার অনুমতি দিতে বাধ্য হয়।

এর আগেও এ ধরনের বেশি কিছু ছবিকে নগ্নতার নীতিমালায় আনায় বিতর্কের মুখে পড়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

তাই বাধ্য হয়েই নগ্নতা নীতিমালা নিয়ে কিছুটা নমনীয় হয়েছে ফেসবুক। ফেসবুকের দু্ই ভাইস প্রেসিডেন্ট জোয়েল কাপলান এবং জাস্টিন ওসোফস্কি সম্প্রতি ব্লগে লিখেছেন, ‘নগ্নতা বা সহিংসতা সম্পর্কিত যেসব ছবি বিশ্বের কোনো অংশে গ্রহণযোগ্য সে সবই হয়তো আবার বিশ্বের অন্য কোনো অংশে গ্রহণযোগ্য নয় বা এমনকি বেআইনি। এই বিষয়টি বেশ জটিল। কোন ধরনের বিষয়বস্তু প্রকাশ করা যথাযথ বা যথাযথ নয় তা মূলত মানুষের অভিরুচি এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ দ্বারা নির্ণীত হয়।’

‘সংবাদ হওয়ার যোগ্য, তাৎপর্যপূর্ণ বা জনস্বার্থের জন্য লোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন, এমন আরো অনেক পোস্ট সামনের সপ্তাহগুলোতে প্রকাশের অনুমোদন দেব আমরা। আমাদের ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য হলো নিরাপত্তা ঝুঁকি আরোপ ছাড়াই আমরা ফেসবুকে আরো বেশি বেশি ছবি এবং গল্প প্রকাশের অনুমোদন দেব।’

তথ্যসূত্র : মিরর