বিয়ানীবাজার পৌরবাসী নির্বাচনের অপেক্ষায়

স্টাফ রিপোর্টার :: বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচন অনুষ্টানের আইনী বাধা দূর হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি এস.কে সিনহার নেতৃত্বে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের এক রায়ে এখানকার পৌরসভার নির্বাচন আয়োজনে দীর্ঘদিনের জঠিলতার অবসান হয়।
মামলা সূত্র জানায়, সদর ইউনিয়নসহ আশপাশের কিছু এলাকা নিয়ে বিয়ানীবাজার পৌরসভা গঠনের পর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তখনও তৎসময়ে নির্বাচিত সদর ইউপি চেয়ারম্যান তফজ্জুল হোসেনের মেয়াদ বাকী ছিল। তিনি মেয়াদ পূর্তি এবং প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রীট পিটিশন দাখিল করেন। আদালত তার দায়েরকরা রীট পিটিশন আমলে নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষনা করেন। এরপর থেকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তফজ্জুল হোসেন প্রশাসকের দ্বায়িত্ব পালন করছেন।
রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে পৌর প্রশাসকের ভাই ময়নুল হোসেন বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত কি নির্দেশনা দিয়েছেন তা দেখে আইনজীবির সাথে পরামর্শ সাপেক্ষে পৌরবাসীর অধিকার সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শুকুর জানান, সুপ্রীম কোর্টের রায়ে নির্বাচনকালীন সময় পর্যন্ত কে দ্বায়িত্ব পালন করবেন, এ ধরণের কোন স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। তবে আদালত দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র হতে আগ্রহী এবং সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের অপেক্ষা যেন আর সইছেনা। মেয়র পদে আগ্রহী এখানকার প্রায় এক ডজন প্রার্থী এবং কাউন্সিলর পদে আগ্রহী আরো অন্তত: ৬০জন প্রার্থীর সরব পদচারণায় মুখর এখন পুরো পৌরএলাকা। বিয়ানীবাজার পৌরসভায় মেয়র পদে বর্তমান প্রশাসক তফজ্জুল হোসেন, আওয়ামীলীগ থেকে সভাপতি আব্দুল হাছিব মনিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: জাকির হোসেন, সহ-দফতর সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল, পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শুকুর, বিএনপি থেকে সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হোসেন, পৌর সভাপতি আবু নাসের পিন্টু, জাসদ থেকে শমসের আলম, জাতীয় পার্টি থেকে সাহেদ আহমদ নির্বাচন করতে পারেন। জামায়াতে ইসলামী এখানে কোন প্রার্থী না দিলেও পৌর এলাকার ১, ২, ৪, ৫, ৬ এবং ৯নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলার প্রার্থী মনোনয়ন দিবে।
সার্বিক বিষয় নিয়ে তফজ্জুল হোসেন জানান, নির্বাচন যখনই হোক আমি তৎকালীন সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যাবো। এতে কোন আইনী সমস্যা নেই।