একটি পর্যবেক্ষন

                                                                       //শরিফুল হক মন্জু //

বিয়ানীবাজার উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবদুল কুদ্দুস টিটু না হয় ভুল করেছেন! কিন্তু উপজেলার দশটি ইউনিয়ন আওয়ামি লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকরা কি ভুল করেছেন। আওয়ামি লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য হিসেবে দেশের জাতীয় রাজনীতির নীতিনির্ধারনী ফোরামের শীর্ষ নেতা নির্বাচিত হয়ে নিজ জন্মমাটি বিয়ানীবাজারে প্রদার্পন উপল‌ক্ষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এর গণসংবর্ধনা অনুষ্টানে ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকরা কেন? বক্তৃতা করার সুযোগ পাননি, তা আমার মতো করোরই অজনা নয়। প্রকারন্তরে তৃণমুল আওয়ামি লীগের স্থানীয় হাজার হাজার নেতাকর্মীর মুখ্যপাত্রদের প্রতি শুধু বৈষম্য বা অবমূল্যায়ন নয়, রিতিমত অসম্মানিত করা হয়েছে বলে অনেকে অভিযোগের তীর ছুঁড়েছেন উপজেলার আওয়া‌মি লীগ নেতৃবৃ‌ন্দের দিক‌ে।
যে তৃণমুলের নেতাকর্মীরা উপজেলা আওয়ামি লীগের প্রান। যারা জাগলে উপজেলার রাজনীতিতে প্রাণ সঞ্চারিত হয়। সেই মুজিববাদ আদর্শের চেতনায় উদ্বেলিত উদ্ভাসিত তারণ্যমুখর নেতৃত্বকে মঞ্চ ও বক্তৃতার বাহিরে রেখে অসম্মানিত করে, যে অপরাজনীতি হয়েছে তা তারা সহজে মেনে নিতে পারছেন না। আওয়ামি লীগের আসন্ন কাউন্সিলে এই বৈষম্য ও অসম্মানের প্রভাব পড়বে কি না জানিনা। তবে তৃণমুলের নেতারা সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে অতিতের মতো ভুল করবেন না, এমন আবাস দিয়েছেন তারা।
বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে, তৃণমুলের নেতারা এতোদিন বর্তমান উপজেলা কমিটির পরিবর্তনের দাবীতে নিরব থাকলেও, ১০ নভেম্বরের সভার পর থেকে বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দের ওপর আস্তা হারিয়ে চরম অসন্তোষ। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, যে নেতা দল বুঝেন, কর্মী বুঝেন, কর্মীদের মূল্যায়ন করেন বা করবেন এমন নেতাই প্রত্যাশা করেন তৃণমুলের নেতৃবৃন্দ।
ইউনিয়ন আওয়ামি লীগের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে, গণসংবর্ধনা সফলে গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র ব্যানার তোরন বিলবোর্ডে প্রচার প্রচারণা শেষে, যখন ১০ নভেম্বর দুপুরে সংবর্ধনা মঞ্চস্থল শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত উৎসব মুখর করে রাখা নেতারা মূল্যায়ন ব‌ঞ্চিত হ‌য়ে, সন্ধায় হতাশাকে সঙ্গি করে বাড়ি ফিরেছেন। এমন‌কি ক্ষো‌ভে‌ অভিমা‌নে দ্রো‌হে, উপ‌জেলা আওয়া‌মি লীগ সভাপ‌তির ্োবদুল হা‌সিব ম‌নিয়ার দেয়া রা‌তের নৈশ‌ভোজ আত্নসম্মা‌নের সা‌থে তারা প্রত্যাখান ক‌রেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সম্মা‌নে সভাপ‌তির দেয়া নৈশ‌ভোজ প্রত্যাখান করে ব‌ল‌েছেন, তারা পোষাপ্রাণী হ‌তে‌ে পারেন না, আত্নসম্মান ন‌ি‌য়ে‌ে বাঁচ‌তে চান।
লন্ডন যুবলী‌গের তথাক‌থিত এক নগন্য নেতসহ
প্রবাস ফেরত পদ পদবী বিহীন অনেকে বক্তব্যের সুযোগ পেলেও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক এবং দশটি ইউনিয়ন আওয়ামি লীগের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের কেউ বক্তৃতার সুযোগ পাননি। এতে করে শুধুমাত্র তাদের মনই ভাঙ্গেনি। তারা অভিশাপ দিয়ে বলছেন, এতো কিছুর পর তাদের মূল্যায়ন কি? আগামীতে কি মূল্যায়িত হবেন। এমন প্রশ্নই তারা একে অপরের প্রতি রাখছেন। তবে তারা একটি কথাই সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, আগামী কাউন্সিলে তৃণমুণই হবে কমিটি গঠনের নিয়ামক শক্তি। পর্যবেক্ষন মহল মনে করছেন, এই ভুলের খেসারত উপজেলা আওয়ামি লীগ নেতৃবৃন্দকে দিতেই হবে। ভুলের মাশুল হিসেবে প্রকাশ্য বিরোধ ও দ্বন্ধ রুপনিতে পারে।
অপরদিকে অনেকটা ঘটা করে যুক্তরাষ্ট্র ফেরত উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবদুল কুদ্দুস টিটু ঢাকায় নেমেই বিমান বন্দর থেকে ফুলের তোড়া নিয়ে সোজা আওয়ামি লীগের নবাগত প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বাসায় ছুটে যান শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে। আবার একদিন পর একই বিমান চড়ে নুরুল ইসলাম নাহিদের সাথে আবদুল কুদ্দস টিটু সিলেট আসেন। মন্ত্রী নাহিদের পাশাপাশি টিটুকেও বরণ করতে সি‌লেট বিমান বন্দ‌রে যান তার অনুসারী ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতাকর্মীরা। মন্ত্রীর পাশাপাশি টিটুর নাম ধরে শ্লোগান দেন তার অনুসারীরা। মন্ত্রী নাহিদের উপস্তিতিতে, তার নামের পাশাপাশি যুবলীগ আহবায়ক টিটুর নাম ধরে শ্লোগান দেয়ায় বিব্রত হোন নবাগত প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ । ক্ষিপ্ত ও মনোক্ষুন্ন হোন নাহিদের বিশ্বস্ত সহচররা এবং ঘনিষ্টরা। বিশ্বস্ত সহচররা এবং ঘনিষ্টদের পরামর্শের কানকথায় আবদুল কুদ্দুস টিটু উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হওয়া সত্বেও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এর গণসংবর্ধনা অনুষ্টানের মঞ্চে ওঠা থেকে শুরু করে বক্তৃতা দেয়া থেকে বাহিরে রাখা হয়। বিভিন্ন মাধ্যম ও সুত্র থেকে নিশ্চিত হলাম, নবাগত প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপির সাথে পাশাপাশি বসে, এক বিমানে চড়ে সিলেটে এসে যুবলীগ আহবায়ক আবদুল কুদ্দুস টিটু শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের মুখোমুখী হন। মুখোমুখি শ্লোগানে শ্লোগানে বিরোধের বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে রাজনীতির মঞ্চে ও রাজপথে। ১০ নভেম্বর আওয়ামি লীগের নবাগত প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের গণসংবর্ধনা অনুষ্টানে, নুরুল ইসলাম নাহিদের মুখোমুখী হয়ে বসেন যুবলীগ আহবায়ক আবদুল কুদ্দুস টিটু। নবাগত প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ মঞ্চের আসনে বসেন। টিটু বসেন মঞ্চের সাম‌নের সাধারণ আসনে। মঞ্চ আর মঞ্চের বাহিরে তারা দু’জন এভাবে মুখোমুখি হন।
বিরোধের এই বিষবাষ্প মঞ্চ থেকে রাজপথ হয়ে এখন ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাদা ছোঁড়াছুড়ি চলছে। যুবলীগের প্রতিষ্টা বার্ষিকীর দিন, ঐক্যবদ্ধ উপজেলা যুবলীগ তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পাল্টাপাল্টি প্রতিষ্টা বার্ষিকী পালন করেন। অতিতে এমন দৃশ্য দেখা না গেলেও ১০ নভেম্বরের পর থেকে এই দৃশ্যপটের সৃষ্টি হয়েছে। যুবলীগ আহবায়কের নেতৃত্বে একপক্ষ কেক কাটেন একটি ব্যবসা প্রতিষ্টানে। উপজেলা আওয়ামি লীগ সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খানের উপস্তিতিতে কেক কাটেন অপর পক্ষ। পৌর আওয়ামি লীগের সাধারণ সম্পাদক এবাদ আহমদের নেতৃত্বে তার ব্যক্তিগত দফতরে যুবলীগের প্রতিষ্টা বার্ষিকীর অনুষ্টান করেন। উপজেলা ব্যাপী সর্বমহলে এই তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে। অওয়া‌মি লী‌গের ঘ‌রোয়া রাজনী‌তি কোন‌দিক‌ে গড়া‌চ্ছে তা এখন দেখার বিষয়।

 

লেখক : শরিফুল হক মন্জু, প্রবাসী সাংবাদিক, সাবেক বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি দৈনিক যুগান্তর ।