বড়লেখা উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

                                                //এম.এ হাসান//

বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ যা ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। সংক্ষেপে যুবলীগ নামে সংগঠনটি বহুল প্রচলিত। এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন শেখ ফজলুল হক মণি। ২০১২ সালের ১৪ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যান পদে ওমর ফারুক চৌধুরী ও সম্পাদক পদে মো. হারুনুর রশিদ নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত নূর হোসেন ছিলেন যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। ১৯৩৯ সালের ৪ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গি পাড়ায় জন্ম নেন বাংলাদেশের অন্যতম মোধাবী রাজনৈতিক যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি। তিনি বাংলাদেশের স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে। কিন্তু তিনি নিজের গুণেই ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনিও সস্ত্রীক খুনিদের হাতে শাহাদৎবরণ করেছেন। তাঁর স্ত্রী আরজু মণি ছিলেন অন্ত:সত্ত্বা। আজকের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস শেখ মণির ছেলে।

শেখ মণি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন। ১৯৬৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ পাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দু’দুবার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনিও কারানির্যাতিত নেতা ছিলেন। আইয়ুব খান-মোনায়েম খান তাকে ব্যক্তিগতভাবে বড় শত্রু হিসেবেই চিনতেন। ষাটের দশকের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি আন্দোলনে শেখ মণির ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় কৃতিত্ব ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ছয়দফার পক্ষে হরতাল সফল করে তোলা। তিনি তখন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। শেখ মণি ষাটের দশকে বঙ্গবন্ধু নির্দেশিত স্বাধীনতা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ নিউক্লিয়াস বাহিনীর পরিকল্পক ছিলেন। তেমনি ১৯৭১ সালের সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর আরো একটি বড় পরিচয় তিনি সাংবাদিক, তাত্ত্বিক কলামিস্ট ও ছোট গল্পকার ছিলেন। পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতির উপাসক ছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সুস্থ বিনোদন ধর্মী সাপ্তাহিক “সিনেমা পত্রিকা” বাঙালির সংস্কৃতির পরিশিলিত বুনিয়াদ নির্মাণে ভূমিকা রেখেছিল। তিনি মনে প্রাণে চেয়েছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী অস্থির যুব সমাজকে সৃজনশীল কাজে প্রবাহিত করতে। তাইতো তিনি ১৯৭২ সালে ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দৈনিক বাংলার বাণী’র প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন। দৈনিক বাংলা বাণী ও আওয়ামী যুবলীগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে অভিন্ন ছিল, শোষনহীণ সোনার বাংলা গড়ে তোলার।

আমার এ লেখার একটি উদ্দেশ্যে আছে। আগামী ২৯ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ বড়লেখা উপজেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। এই সম্মেলনের সফলতা কামনা করি। দীর্ঘ ১৩ বছর পরে হলেও এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিক কারণে ছাত্রলীগের সাবেক অনেক নেতাকর্মী দীর্ঘদিন পদবঞ্চিত থেকে হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন এম.পি মহোদয়ের নেতৃত্বে অবিচল থেকে আওয়ামীলীগের আন্দোলন সংগ্রামে তারা অংশ নিয়েছিলেন। নেতৃত্ব এমন এক জিনিস যা তৃণমূল থেকে শুরু হতে হয়। এক্ষেত্রে বড়লেখার রাজনৈতিক অঙ্গন বিশেষ করে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন তাদের অনেক চড়াই-উতরাই পাড়ি দিতে হয়েছে। অনেকে ছাত্রজীবন ঠিকমতো শেষ করতে পারেন নি জেল-জুলুম হুলিয়া মাথায় রেখে রাজনীতির সাথে তারা একাত্ম ছিলেন। এই সম্মেলনে আমার আশা এমন এক নেতৃত্ব বেরিয়ে আসুক যার নেতৃত্বে বড়লেখা যুবলীগ আগামী আন্দোলন সংগ্রামে অত্যন্ত সুগঠিত থাকবে। যারা সাবেক ছাত্রলীগে ইস্পাত কঠিন পাথরের ন্যায় সকল আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে সর্বাগ্রে ছিল, সর্বোপরি বর্তমান কর্মীবান্ধব নেতৃত্বে যে বা যারা সামনে থেকে এখনও নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন, যার মধ্যে উদ্দীপনা আছে, মেধা ও মননশীলতায় যে খুব প্রখর, রাজনৈতিক দূরদর্শী সম্পন্ন, তৃণমুলে এখনও যার আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা সেই প্রত্যুৎপন্নমতি নেতা বা নেতাবৃন্দ হাল ধরবেন আগামীর বড়লেখা যুবলীগ। আমি সম্মানিত যুবলীগের সকল ইউনিয়ন/পৌরসভার কাউন্সিলারের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি এমনই এক স্বপ্নীল নেতৃত্ব গঠনের। অবশ্য এখনকার কর্মী কাউন্সিলারগণ অনেক সচেতন, তারা খুব বিচক্ষণও বটে। উপজেলা যুবলীগের আগামীর সভাপতি/সম্পাদক নির্বাচিত করতে কাউন্সিলারগণের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ইতিমধ্যে বিরাজ করছে। উপজেলায় সর্বত্র তাদের প্রিয় নেতা নির্বাচিত করতে কেউ কেউ প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। কাউন্সিালারদের অভিমত, যাদের হাতে বড়লেখা যুবলীগ সু-সংগঠিত থাকবে, নেতা-কর্মীর মূল্যায়ন হবে এমন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তারা চায়। সভপতি পদটি যেমন মূল্যবান তেমনি সাধারণ সম্পাদক পদটিও মূল্যবান। এ পদের ব্যক্তি হতে হবে ব্যক্তিত্ববান, রাজনৈতিক মেধাসম্পন্ন ও দ্রুত সিদ্ধান্তকারী যার নেতৃত্বে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা উজ্জ্বীবিত থাকবে। হালকা ধাচের ব্যক্তি যদি নির্বাচিত হন সংগঠনের ভারসাম্য ভেঙ্গে পড়ে। আমাদের বড়লেখা-জুড়ী আসনের গণ মানুষের নেতা জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন এমপি মহোদয়ের নেতৃত্বের প্রতি ভবিষ্যৎ বড়লেখা যুবলীগের আনুগত্য এবং আওয়মীলীগের সকল কর্মকা-ে নিয়োজিত থেকে রাজনৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন। এই হোক আমাদের সকলের প্রত্যাশা।

লেখক ::  এম.এ হাসান. প্রভাষক, নারীশিক্ষা একাডেমী ডিগ্রি কলেজ, বড়লেখা।