বাইসাইকেলে স্কুল যাবে কিশোরীরা

বড়লেখা প্রতিনিধি :

বড়লেখার সীমান্তবর্তী শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাহিমা। বৃহস্পতিবার বৃষ্টিস্নাত সকালে দাঁড়িয়ে আছে বড়লেখা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে। চোখে মুখে আত্মবিশ্বাসের ছাপ। তার সঙ্গে আরও ১১১ জন ছাত্রীর মুখেও নতুন আলোর সন্ধান, এগিয়ে যাওয়ার পণ। এগিয়ে যাওয়ার পথে তাদের সঙ্গী এবার বাইসাইকেল। উৎসবের রেশে বৃহস্পতিবার (১১ মে) তারা বুঝে পেয়েছেন স্কুলে যাবার নতুন বাহন।
‘শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় নারীর ক্ষমতায়নে উপজেলা পর্যায়ে মেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাইসাইকেল বিতরণ প্রকল্পের আওতায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুনের উদ্যোগে ১১২ জন ছাত্রীর হাতে এ বাইসাইকেল তুলে দেওয়া হয়। প্রতিটি সাইকেলে রয়েছে আলাদা আলাদা পরিচিতি নম্বর।

সিলেট বিভাগের মধ্যে প্রথমবারের মতো এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার নাজমানারা খানুম। ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১০টি করে ১০০টি ও পৌরসভায় ১২ টিসহ মোট ১১২টি বাইসাইকেল ২৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে উপজেলা পরিষদ।

অনুষ্ঠানস্থলে কথা হয় শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী লিজা আক্তারের সাথে। উচ্ছ্বসিত লিজা বলে ‘সাইকেল পেয়ে খুব ভাল লাগছে। স্কুলে যেতে এখন গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। গাড়ির জন্য অপেক্ষা করে এত দিন স্কুলে যেতে দেরি হত। মাঝে মাঝে গাড়ি না পেলে স্কুলে যাওয়াও বন্ধ থাকত।’
বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সামিয়া সুলতানা। বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাসের সাথে নতুন সাইকেলটি সহপাঠীদের নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিল সে।

‘আমি আনন্দিত। নারীর ক্ষমতায়নে এ সাইকেল প্রাপ্তি আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সামনের দিকে। স্বপ্ন বাস্তবায়নে এটি অগ্রণী ভূমিকা হিসেবে কাজ করবে।’

বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার উর্মি বলে, ‘আমি বড়লেখা সদর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল ডিমাই থেকে আসি। প্রতিদিন গাড়ি ভাড়া দিতে হয় অনেক টাকা। সাইকেল পাওয়ায় স্কুলে যাতায়াতে সুবিধা হবে। নিয়মিত এখন স্কুলে যেতে পারব।’

সদর ইউনিয়নের সাতকরা কান্দি গ্রামের ফরিদা জান্নাত। সে বড়লেখা পিসি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীতে পড়ে। সে জানায়, ‘বৃষ্টির দিনে বিদ্যালয়ে আসতে কষ্ট হত। গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হত। সিএনজি চালিত অটোরিকশায় আসতে হত। ৫জন যাত্রী না হলে গাড়ি ছাড়ত না। কোন সময় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে আসত চালক। এখন গাড়ীর জন্য অপেক্ষার অধ্যায়ের সমাপ্তি হল।’

কথা হয় সাইকেল পাওয়া জনপল জুনিয়র হাইস্কুলের ছাত্রী তামান্না বেগমের সাথে। তার প্রতিক্রিয়া, ‘আমি ভাবতেই পারছি না একটি সাইকেল পাব।’ একই স্কুলের ছাত্রী পলিনা বেগম বলে, ‘আমি ৫০ মিনিট পায়ে হেঁটে প্রতিদিন স্কুলে আসি, আবার হেঁটে বাড়ি যাই। সাইকেল পাওয়ায় হাঁটার কষ্ট আর করতে হবে না।’

অনুষ্ঠানে আসা ১ নম্বর বর্ণী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন বলেন, ‘প্রত্যেক ইউনিয়নে যখন ১০জন মেয়ে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাবে তখন আলোড়ন সৃষ্টি হবে। একে অন্যরা অনুসরণ করবে এবং এটা নারীর ক্ষমতায়নে অনেক এগিয়ে যাবে। এছাড়া এদের দেখা দেখি সক্ষম অভিভাকদের কাছ থেকে সাইকেল পেয়ে অন্যরাও এ অভিযাত্রায় অংশীদার হবে বলে আমি মনে করছি।’

সাইকেল বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সমীর কান্তি দেব’র সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: প্রণয় কুমার দে প্রমুখ।বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার উর্মি বলে, ‘আমি বড়লেখা সদর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল ডিমাই থেকে আসি। প্রতিদিন গাড়ি ভাড়া দিতে হয় অনেক টাকা। সাইকেল পাওয়ায় স্কুলে যাতায়াতে সুবিধা হবে। নিয়মিত এখন স্কুলে যেতে পারব।’

সদর ইউনিয়নের সাতকরা কান্দি গ্রামের ফরিদা জান্নাত। সে বড়লেখা পিসি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীতে পড়ে। সে জানায়, ‘বৃষ্টির দিনে বিদ্যালয়ে আসতে কষ্ট হত। গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হত। সিএনজি চালিত অটোরিকশায় আসতে হত। ৫জন যাত্রী না হলে গাড়ি ছাড়ত না। কোন সময় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে আসত চালক। এখন গাড়ীর জন্য অপেক্ষার অধ্যায়ের সমাপ্তি হল।’

কথা হয় সাইকেল পাওয়া জনপল জুনিয়র হাইস্কুলের ছাত্রী তামান্না বেগমের সাথে। তার প্রতিক্রিয়া, ‘আমি ভাবতেই পারছি না একটি সাইকেল পাব।’ একই স্কুলের ছাত্রী পলিনা বেগম বলে, ‘আমি ৫০ মিনিট পায়ে হেঁটে প্রতিদিন স্কুলে আসি, আবার হেঁটে বাড়ি যাই। সাইকেল পাওয়ায় হাঁটার কষ্ট আর করতে হবে না।’

অনুষ্ঠানে আসা ১ নম্বর বর্ণী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন বলেন, ‘প্রত্যেক ইউনিয়নে যখন ১০জন মেয়ে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাবে তখন আলোড়ন সৃষ্টি হবে। একে অন্যরা অনুসরণ করবে এবং এটা নারীর ক্ষমতায়নে অনেক এগিয়ে যাবে। এছাড়া এদের দেখা দেখি সক্ষম অভিভাকদের কাছ থেকে সাইকেল পেয়ে অন্যরাও এ অভিযাত্রায় অংশীদার হবে বলে আমি মনে করছি।’

সাইকেল বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সমীর কান্তি দেব’র সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: প্রণয় কুমার দে প্রমুখ।