বিয়ানীবাজারে বিক্রি হচ্ছে গ্রীষ্মের ‘অপরিপক্ক’ পাকা ফল

শিপার আহমেদ ::

৬ বছরের শিশু সামিরা তার বাবা আলী হোসেনের কাছে বায়না ধরেছে লিচু খাবে। কিন্তু বাবা হৃদয় নানান বাহানায় মেয়েকে কিনে দিতে চাচ্ছেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেয়ের বায়নার কাছে হার মানলেন তিনি। কৌতূহলবশত বিষয়টি নিয়ে তার সাথে কথা বল্লাম আমরা তার সাথে। তিনি বলেন, ‘সিজন হিসেবে এখনও লিচু আসার সময় হয়নি। সেই হিসেবে বাজারে যে লিচু আছে সেগুলো খাওয়া নিরাপদ না। কিন্তু কি করার আছে কন! আমি বুঝি, মেয়েতো বোঝে না। তাই বাধ্য হয়ে মেয়ের আবদার রক্ষা করতেই কিনলাম।’

প্রথম দিকে লিচু কিনতে না চাইলেও একমাত্র মেয়ের আবদার রক্ষা করার জন্য বিয়ানীবাজার পৌরশহরের দক্ষিণ বাজার থেকে লিচু কিনেছেন তিনি। হয়তো বাসায় গেলেই লিচুর জন্য কান্না জুড়ে দিতে পারে বাচ্চাটি। কিন্তু লিচু না কিনার বিষয়ে একটু আগে যা বললেন, এটা অনেকটা বিশেষজ্ঞদের মতামতই বলা চলে।

আজ জ্যৈষ্ঠ মাসের দুই তারিখ। এরই মধ্যে গ্রীষ্মের রসালো ফল আম, লিচু ও কাঁঠালে ছেয়ে গেছে বিয়ানীবাজার পৌরশহরের বিভিন্ন বড় বড় ফলের দোকান থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত। মঙ্গলবার বিয়ানীবাজার উপজেলার বেশ কয়েকটি  বাজার ঘুরে দেখা যায়, থরে থরে সাজানো রয়েছে আম, লিচু ও কাঁঠাল।

অপরিপক্ক ফল কেন বিক্রি করছেন জানতে চাইলে খুচরা ফল বিক্রেতা শাহিন বলেন, ‘কি করমু ভাই, আমি যদি না বেচি পাশেরজন ঠিকই বেচব। পরে দেহা যাইবো বৌ-পুলাপাইন লইয়া আমারই না খাইয়া থাহা লাগব।’

সময়ের আগেই আম কী দিয়ে পাকানো হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে শাহিন বলেন, ‘ভাই, আমি জানমু কেমনে, এগুলো বড় ব্যবসায়ীরা জানে।’

পৌরশহর ঘুরে কয়েকজন ফল ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয়। মৌসুমের আগেই বর্তমানে বাজারে আসা বেশিরভাগ ফলগুলো অপরিপক্ক স্বীকার করেছেন সবাই।

কেউ আম খেতে পছন্দ করেন, কেউ লিচু আবার কেউবা কাঁঠাল। তিনটি রসালো ফলেরই বেশ কদর রয়েছে মানুষের কাছে। ফলগুলোর পুষ্টিগুণও অনেক। কিন্তু পছন্দের তালিকায় যার যেটাই হোক না কেন, রসনা তৃপ্ত করতে দাম দিয়ে কিনে যে ফলটা খাচ্ছে, সেটা নিরাপদ তো? সেই ফলের প্রকৃত স্বাদ ও পুষ্টিগুণ ঠিকমতো আছেতো?

বর্তমানে বাজারে যে মৌসুমী ফল রয়েছে, সেটা এখনই না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (টিএইচও) ডা: ময়াজ্জিম আলী খান। তিনি বিয়ানীবাজারকণ্ঠকে বলেন, ‘সবজায়গায় যেসব মৌসুমী ফল দেখছেন এগুলো কৃত্রিকভাবে পাকানো হচ্ছে। এত তাড়াতাড়ি আম, লিচু ও কাঁঠাল খাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই। এই ফল খেলে বিভিন্ন ধরণে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে জানান তিনি ।