শিশু ধর্ষণের অভিযোগে র‌্যাবের হাতে আটক ছারওয়ারের বিরোদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার ::

ধর্ষিত এক শিশুকে বিচার পাইয়ে দেয়ার আশ্বাসে আটকে রেখে তাকে আবারও যৌন ধর্ষণের অভিযোগে বিয়ানীবাজারে সারোয়ার আহমেদ নামে এক লন্ডন প্রবাসীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

সোমবার (২২ মে) দুপুরে ওই শিশুর পিতা বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় মামলাটি করেন।

এর আগে শনিবার রাতে বিয়ানীবাজারের দেউলগ্রামে অভিযান চালিয়ে সারোয়ার আহমেদ (৩৫) নামের ওই লন্ডন প্রবাসীকে আটক করেছে র‌্যাব। তখন সারোয়ারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে শিশুরটির পিতা অভিযোগ করেছেন, কানাইঘাট উপজেলার এরালিগুল গ্রামের এক দরিদ্র বাবার ছোট মেয়ে ওই শিশুটি। তাদের বড় ছেলে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর গ্রামের প্রভাবশালীরা তাদের গ্রামছাড়া করেন। এ সময় তিনি তার স্ত্রী ও এক শিশু সন্তানকে নিয়ে গ্রামে ছেড়ে চলে যান। তবে ১২ বছরের আরেক মেয়েকে নিরাপত্তার জন্য বড় ভাই সামসুদ্দিনের কাছে রেখে যান। তিনি নিজে স্ত্রী ও শিশু সন্তানটিকে নিয়ে গত ২৭ এপ্রিল বিয়ানীবাজার উপজেলার দেউলগ্রামের লন্ডন প্রবাসী সারোয়ার আহমেদের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

এর কয়েক দিন পরই ভাই সামসুদ্দিনের ছেলে জমির উদ্দিন কৌশলে তার মেয়েকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে উপজেলার ছোটফৌজ গ্রামের মুজির উদ্দিন ও নারাইনপুর গ্রামের আজির উদ্দিনকে নিয়ে জমির তার ওপর পালাক্রমে যৌন নির্যাতন চালায়। পরে তারা আরও বেশ কয়েক দিন তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।

ইতিমধ্যে শিশুটি তার মাকে তার ওপর চলা পাশবিক নির্যাতনের সব ঘটনা খুলে বলেন। বাবা বিষয়টি শুনে প্রবাসী সারোয়ারের সাহায্য চান। তিনি সাহায্যে এগিয়ে এসে ২৯ এপ্রিল শিশুটিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পান এবং চিকিৎসা শেষে ৩০ এপ্রিল থানায় অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেন। কিন্তু অভিযোগ দায়ের করার ক্ষেত্রে বাধ সাধেন সারোয়ার। তিনি মেয়েটিকে তার বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান। সেই সারোয়ার কয়েক দিন পর আমার এই মেয়ের ওপরই পাশবিক নির্যাতন শুরু করেন। শিশুটি আবারও তার মায়ের কাছে বিষয়টি জানালে তা সারোয়ারের মা ও স্ত্রীকে জানানো হয়। এ নিয়ে সারোয়ারের পরিবারে কলহ শুরু হয়। সারোয়ার স্ত্রীকে পাঠিয়ে দেন শ্বশুর বাড়িতে। এরপর তিনি শিশুটিকে রেখে দেন তার নিজ ঘরে। শিশুটিকে নিয়ে তার বাবা-মা বাড়ি চলে যেতে চাইলে তাদের ওপর নির্যাতন চালান সারোয়ার। একপর্যায়ে নির্যাতনের মাত্রা এতটাই প্রকট হয় যে, মেয়েটিকে রেখেই সারোয়ারের বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় তার পরিবার।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্ত্তী বিয়ানীবজাারকণ্ঠকে বলেন, র‌্যাবের হাতে আটক ছারওয়ারের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষিত শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা (নং-১০ তাং ২২/০৫/২০১৭) দায়ের করেছেন। আজ (সোমবার) আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।