ফেসবুকে ছবি নিয়ে অনৈতিক ওস্তাদিপনা

মাহবুবুর রহমান চৌধুরী
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা গেছে  চোখে চশমা পরা জনৈকি ব্যাক্তি একজন বৃদ্ধের ঘাড়ে বসে আয়েশি ভঙ্গিতে মোবাইলফোনে কথা বলছেন। অনেকে ছবিটি প্রথম দেখাতেই অমানবিক , বর্বর এমনকি মোবাইল ফোনে কথা বলা ব্যাক্তিকে অমানুষ বলে মন্তব্য করেন। ছবিটি সুক্ষভাবে পর্যবেক্ষন না করেই আমাদের দেশেরই কিছু সংবাদ মাধ্যম ছবিটি অমানবিক হিসেবে আখ্যা দেয়।  বাস্তবে ছবিটি কারসাজি করে তৈরী করা বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। ছবিতে মোবাইলে কথা বলা ব্যাক্তিটি একজন স্কুল শিক্ষক তিনি মাঠবাড়িয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক (সূত্র: নিউজঅর্গান টুয়েন্টিফোরডটকম)  তাঁর সাথে শত্রুতা কিংবা তাকে সমাজের চোখে খারাপ বানানোর অসৎ উদ্দেশ্যে কে বা কারা এই ছবি তৈরী করে প্রকাশ করেছে। এনিয়ে মাঠবাড়িয়া থানায়  ঐ শিক্ষক সাধারন ডায়েরী করেছেন যার নং ১১৩১ (তাং ২৫.০৫.২০১৭)। ছবিতে লাল বৃত্ত চিহ্ন দিয়ে আমি কিছু ব্যাখা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।সুতরাং প্রথম দেখাতেই  অনৈতিক  ওস্তাদিপনা না দেখিয়ে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করা উচিৎ সকলের।আমাদের একটি ভুলে সমাজে বিরাট যুদ্ধ লেগে যেতে পারে এদিকে সকলের নজর দেওয়া উচিৎ। মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম তারিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যে দোষী প্রমানিত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ৫৬নং মঠবাড়িয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাইনুল ইসলাম জানান, ‘ফেসবুকে যে ছবিটি পোষ্ট করে আমাকে দাবী করা হচ্ছে আসলে ওই ছবিটি আমার নহে। উক্ত ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায় ঠোটের উপর একটি তিল রয়েছে। আসলে প্রকৃত পক্ষে আমার ঠোটের উপর কোন তিল নেই। একটি কুচক্রি মহল সমাজে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ফটোশপে ছবি এডিট করে পোষ্ট করেছে। আসলে উল্লেখিত ছবিটি আমার নয়। আমি এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

অনৈতিক ওস্তাদিপনার আরেকটি নির্দশন দেয়া যাক: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইম্স-এর আলোকচিত্রী Brian Walski  গিয়েছিলেন ইরাক যুদ্ধ কাভার করতে। ইঙ্গ-মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত (embedded) হয়ে ব্রায়ান যুদ্ধেও ময়দান থেকে স্যাটেলাইট ফোন প্রযুক্তিতে যুদ্ধের ছবি পাঠিয়ে যাচ্ছিলেন নিয়মিত। বিপত্তি ঘটল ২০০৩ সালের ৩১ মার্চের প্রথম  পাতায় প্রকাশিত ছবিটি নিয়ে। ছবিতে ছিলো, জনৈক বৃটিশ সেনা বিমান আক্রমেণর সময় একদল ইরাকিকে মাটিতে শুয়ে পড়ার নির্দেশ দিচ্ছে। নিঃসন্দেহে মানবিক আবেদনময়ী ছবিটি একটি উচুঁমানের স্পট নিউজ ছবি যা চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতাকে প্রকাশ করে।
বিপত্তি ঘটলো পরদিন। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করলেন জনৈক পাঠক। একটি ছবিতে কিভাবে একই মানুষ দু’বার আসতে পারে! সত্যিই তো, এক লোক দু’বার এলা কি করে?
খুঁটিয়ে দেখে তো ফটো সম্পাদকের মাথায় হাত।
তাহলে কি ছবিটি জোড়া দেয়া? সঙ্গে সঙ্গে ব্রায়ানকে ফোন করলেন তিনি। অভিযোগে দুটো ছবি জোড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করে  আলোকচিত্রী কৈফিয়ত দেওয়ার চেষ্টা করলেন যে, ‘ছবিতে তথ্যের কোন হেরফের ঘটানো হয়নি। পাশাপাশি দুটো ফ্রেমকে এক করা হয়েছে মাত্র।’
‘ফোন রেখে এক্ষুনি দেশে ফিরে এসো,’ নির্দেশ দিলেন ফটো সম্পাদক। চাকরি হালালেন ব্রায়ান ওয়ালস্কি।