বিয়ানীবাজারের এক যুবতী ছাতকে প্রেমিকের বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষণ

মিলাদ জয়নুল:
মোবাইল ফোনের মিস কল থেকে আলাপ, এরপর পরিচয় এবং শেষে প্রণয়ের নামে প্রতারণায় হৃদয় ভেঙ্গে গেছে মেয়েটির। যে হাতে মেহেদী লাগানোর কথা, সে হাত দিয়ে চোখের জল মুছেই দিন কাটছে তার। ভালোবাসার ছলনাময় দ্যুতি তাকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। মেয়েটির বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউপির খশির গ্রামে। প্রেমিক নামীয় প্রতারক আব্দুল আলীমের বাড়ি ছাতক উপজেলার সদরগাও ইউনিয়নের দারণ গ্রামে। তার পিতার নাম আব্দুল কাহার।
প্রায় একবছর তাদের পূর্ব থেকে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৭মে থেকে ২১মে পর্যন্ত মেয়েটিকে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় বলে তার দাবী। সব হারানো মেয়েটি (২২) জানান, আমার মোবাইল ফোনে এক বছর আগে মিসকল আসে। পরিচিত কোন স্বজন ভেবে আমি কল বেক করি। কিন্তু অপরিচিত হওয়ায় সংযোগ কেটে দেই। কিছুক্ষণ পর পুনরায় কল আসলে আমি প্রথমে ধরতে চাইনি। বার বার আসতে দেখে বিরক্ত হয়ে কলটি রিসিভ করে কিছু বলতে যাওয়ার আগেই ওপাশ থেকে বিনয়ের সাথে অপরিচিত এক যুবক কথা বলে। এরপর প্রতিদিন, প্রতি ঘন্টা কথা হয় আমাদের। এক পর্যায়ে উভয়ই মন দেয়া নেয়া করি। গত ৭ মে আলীম ফোন করে জানায়, সিএনজিতে করে শেওলা জিরো পয়েন্টে চলে যেতে। সে জিরো পয়েন্টে এসেছে। আমরা বিয়ে করবো। আমি এরকম প্রস্তাবে প্রথমে রাজি না হলেও তারা জোরাজুরিতে বেরিয়ে পড়ি।
এরপর সিলেটের কুমারগাঁও বাস স্টেন্ডের একটি খাবার হোটেলে এক সাথে খেয়ে আমাকে বসিয়ে রেখে আলীম বাইরে যায়। ফিরে আসে সন্ধ্যার একটু আগে। আমাকে অবাক করে বলে তোমাকে নিয়ে বাড়ি যাব। সেখানেই সবাইকে নিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা করবো। আলীম কথামত তার বাড়ি ছাতক উপজেলার দারণ গ্রামে নিয়ে যায়। অনেক পথ ঘুরিয়ে রাত সাড়ে ১২টায় তাদের বাড়ি যাই। তখন বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে। সে আলগা একটি ঘরে থাকে। সেখানে তার বিছানায় আমাকে ঘুমাতে বলে। তুমি কোথায় ঘুমাবে বললে আমাকে বলে তোমার পাশে। আমি মানা করি। সে বলে কালতো বিয়ে করবো। আজ ঘুমালে সমস্যা কোথায়। আমি জোর করে তাকে ঘর থেকে বের করার চেষ্টা করি। আলীম বলে, জোরাজুরি করো না। বাড়ির সবাই এখন জানতে পারলে সমস্যা হবে। রাত দুইটার দিকে আলীম আমার বুকে হাত দিলে ঘুম ভেঙ্গে যায়। সে আমার সাথে শারিরীক মেলামেশা করতে জোরাজুরি করে। এক পর্যায়ে বলে, আমি তোমাকে বিয়ের করার জন্য একেবারে বাড়িতে নিয়ে আসলাম আর তুমি কি না আমার সাথে এরকম বাজে আচরণ করছো। আমি বলি আগে বিয়ে তারপর তোমার যা খুশি তা করবে। সে কসম করে বলে আমি তোমাকে বিয়ে করবো, সোনালক্ষী একবার হয়ে যাক বলেই জোর করে সে আমাকে ধর্ষণ করে। ফজরের আজান হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনবার আমাকে ধর্ষণ করে আলীম। সকালে আমাকে নিয়ে ওই পরিবারে হুলস্থুল পড়ে যায়। এ ঘটনা জানাজানি হলে প্রতিবেশি লোকজন আমাকে বউ দেখতে দল বেঁধে ছুটে আসে আলীমের বাড়িতে।
মেয়েটি জানান, এরপর আলীম আমাকে মারধর শুরু করে। আমাকে চলে যেতে বললে আমি না করি। আমার চিৎকার শুনে তার মা রিনা বেগম আমাকে নিয়ে আসেন। এরপর সে কৌশলী হয়ে আমার সাথে দেখা করে ভালভাবে কথা বলে। তার ঘরে নিয়ে গিয়ে আমাকে বুঝিয়ে বাড়িতে বিদায় করার চেষ্টা করে। বলে পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব যাওয়ার পর বিয়ে হবে। আমি তার প্রস্তাব শুনে কেঁদে ফেলি। আলীম আমাকে আদর করে কান্না থামায়। পরে তার মামা চেয়ারম্যান বিলালের সহযোগিতায় আমার বাড়িতে খবর পাঠানো হয়। এখান থেকে আমার অভিভাবকরা গেলে বিয়ে পড়ানো হবে বলে জানানো হয়। আমি অপেক্ষা করতে থাকি। আলীম আমাকে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করতে থাকে। আমি এসব বিষয় উল্লেখ করে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
ছাতকের সৈদরগাও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান বলেন, দারণ গ্রামে মে মাসে একটি মেয়ে জোর করে অবস্থান করার কথা শুনেছি। এ বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমঝোতা হয়েছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে। কুড়ারবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে আমরা মেয়েটিকে নিয়ে এসেছি। ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই মেয়েকে ৭০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু তারা টাকা নিচ্ছেনা। তিনি বলেন, টাকা না নিতে চাইলে আমি টাকাগুলো ফেরৎ দিয়ে দেব। মেয়েটির মা জানান, তাদের কোন টাকার প্রয়োজন নাই। ছেলেটি হয় তার মেয়েকে বিয়ে করবে, না হলে তারা আইনের আশ্রয় নেবেন।
মেয়েটি জানান, গত ১০ মে আলীমের বাড়িতে অবস্থানকালে সে আমাকে মারধর করে। হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে মোবাইলে থাকা সকল প্রমানাদি মুছে ফেলে, এরপরও আমার কাছে প্রমাণ রয়েছে। আমি এসব দিয়েই আইনের সহায়তা নেব।