ছেলে ‘হত্যার’ বিচারে সহায়তা চাইলেন সালমান শাহের মা

সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি, তাকে খুন করা হয়েছে- এই মামলার আসামি রাবেয়া সুলতানা রুবির ভিডিওবার্তায় এমন বক্তব্যের পর জনপ্রিয় এই নায়কের মা নীলা চৌধুরীও ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বলেছেন, তিনি এতদিন যা বলে আসছিলেন, তাই এখন প্রমাণ হলো। এই হত্যার বিচারে দেশবাসীর সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

নীলা চৌধুরী এখন লন্ডনে সালমানের ছোট ভাই শাহরানের কাছে থাকেন। সেখান থেকেই তিনি ফেসবুকে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান।

সালমান শাহের মা লেখেন, ‘প্রিয় দেশবাসী। আমাকে সাহায্য করুন। দেখুন, রুবি সুলতানার স্বীকারোক্তি। কীভাবে সালমানকে হত্যা করা হয়েছে। যেভাবে পারেন এফবিআইকে জানান, বাংলাদেশের সকল চ্যানেলকে অনুরোধ করছি রুবির স্বীকারোক্তিটা চালিয়ে দেন।’

সালমান শাহ মারা গেছেন ১৯৯৬ সালে। তার স্ত্রী সামিরা চৌধুরী দাবি করেছিলেন, জনপ্রিয় এই নায়ক আত্মহত্যা করেছেন। তবে সালমান শাহের পরিবার এই দাবি মেনে নেয়নি। তারা একটি অপমৃত্যু মামলা করে এবং দাবি করে এটা হত্যা।

তবে গত ২১ বছরেও এই মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি সালমান শাহ খুন হয়েছেন না আত্মহত্যা করেছেন, এরই মীমাংসা হয়নি। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সালমান শাহের মায়ের মামলার আসামি রাবেয়া সুলতানা রুবির একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ হয়। এতে তিনি নীলা চৌধুরীর প্রতি কাতর কণ্ঠে বলেন, ‘ভাবি, আপনার ছেলেরে খুন করা হইছে। আমার যা করার আমি করব, আমি ভেগে আছি ভাবি, নাইলে আমারেও মেরে ফেলত এরা সবাই মিলে।’

রুবি জানান, সালমান শাহকে খুনে জড়িত ছিলেন তার স্বামী। চীনাদেরকে দিয়ে এই খুন করানো হয়। এতে জড়িত ছিলেন সালমান শাহের স্ত্রী সামিরার পরিবারও।

এই মামলার তদন্ত যেন শেষ না হয়ে যায়, সে জন্য অনুরোধও করেন রুবি। বলেন তিনি পুরো ঘটনার সাক্ষী এবং আদালতে সাক্ষ্য দেবেন।

এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সালমান শাহের মা তা জানতে পারেন। তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘প্রিয়জন, খেয়াল রাখবেন এই নিউজের পর অনেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে। শান্তভাবে কাজ করবে।’

এরপর তিনি সালমানের স্ত্রী সামিরা ও তার পরিবার যেন দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে সে দিকেও নজর দিতে অনুরোধ করেন নীলা চৌধুরী।

ভিডিও বার্তা প্রকাশকারী রুবির ফোন নম্বরও চেয়েছেন নীলা চৌধুরী। তিনি লেখেন, ‘রুবি তুমি এতো কথা বলতে পারছ তাহলে এফবিআই বা আমেরিকার পুলিশকে জানাতে পারছ না কেন, তারা যাতে তোমাকে নিরাপদে রাখে। তোমার ফোন নাম্বার দাও।’