দুই বছরেও মেলেনি মুক্তিযোদ্ধা মেসবাউরের মৃত্যুসনদ

২০১৫ সালে সৌদি আরবে হজে গিয়ে মারা যান মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম মেসবাউর রহমান। এরপর দুই বছর পার হয়েছে কিন্তু এখনো তার মরদেহ ও মৃত্যুসনদ পাননি পরিবার। এ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় ঘুরেও কোনো ফল মেলেনি। ভোগান্তিই কেবল বাড়ছে দিন দিন।

এ বি এম মেসবাউর রহমান ছিলেন সোনার বাংলা ইনস্যুরেন্স কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়। মৃত্যুসনদ না পাওয়ায় পরিবারটির নানা গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় কাজ আটকে আছে, যার ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তারা।

মেসবাউর রহমানের ছেলে এ বি এম মেহেদী হাসানুর রহমান বলেন, ‘বাবা এবং আমার চাচা এ বি এম নওশের আলম ২০১৫ সালে হজে যান। দুজনই পদদলিত হয়ে মারা যান। তাদের মধ্যে চাচার মরদেহ এবং মৃত্যুসনদ অনেক আগেই পাওয়া গেছে। কিন্তু আমার বাবার মরদেহ ও মৃত্যুসনদ এখনো পাইনি।’
২০১৫ সাল থেকেই সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এবং সৌদির বিভিন্ন দপ্তরে মেসবাউর রহমানের মরদেহ ও মৃত্যুসনদ পাওয়ার জন্য আবেদন করে আসছেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু কিনারা করতে পারছেন তারা। মরদেহ শনাক্তের জন্য ২০১৬ সালে মা ও বোনের ডিএনএ নমুনা পাঠানো হয় সৌদি আরব। কিন্তু সেটিরও কোনো অগ্রগতি নেই।

হাসানুর রহমান বলেন, ‘সৌদির কনস্যুলার অফিস জানিয়েছে, ভুল করে ভারতীয় এক নাগরিকের নামে বাবার মরদেহ পাঠানো হয়েছে এবং মৃত্যুসনদ দেয়া হয়েছে। এ কারণেই জটিলতা তৈরি হয়েছে। সৌদির কনস্যুলার অফিসের ভাষ্য, ভারতীয় ওই নাগরিকের সঠিক তথ্য না পেলে মেসবাউর রহমানের মরদেহ ও মৃত্যুসনদ দেয়া সম্ভব নয় তাদের পক্ষে।’

বিষয়টি সুরাহার জন্য বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও হজ মিশনে যোগাযোগ করা হয়েছে জানিয়ে হাসানুর রহমান বলেন, ‘কিন্তু কোনো ধরনের আশার আলো দেখছি না। কোনো ধরনের তথ্যই দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল জলিল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি ওই হাজি সাহেবের বিস্তারিত তথ্য জানি না। আমাকে বিস্তারিত তথ্য দিলে আমি সহযোগিতা করব।’