উদ্ধারকৃত কংকাল কি নিখোঁজ হেলালের?

সুফিয়ান আহমদ

বিয়ানীবাজার পৌর এলাকা থেকে একটি কংকাল উদ্ধার করেছে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার লামা নিদনপুরের একটি আবাধি জমি থেকে কংকালটি উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, কংকালটি সুপাতলা গ্রামের নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের (৫৫) হতে পারে। কংকালের আকৃতি দেখে এমনটি ধারণা নিখোঁজ হেলালের পরিবারের। ইতোমধ্যে কংকালটির ডিএনএ টেষ্টের জন্য সিলেট প্রেরণ করেছে পুলিশ। টেষ্টের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে, কংকালটি নিখোঁজ হেলালের না অন্য কারো- এমনটি জানায় পুলিশ।
জানা যায়, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর আজ (মঙ্গলবার) সকালে বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার লামা নিদনপুর গ্রামের কৃষকরা কৃষিকাজের জন্য জমিতে চাষ করতে যান। এসময় তারা বিচ্ছিন্ন কয়েকটি হাঁড় দেখতে পান। প্রথমে তারা অন্য প্রাণীর হাঁড় বলে বিষয়টি এড়িয়ে গেলে পরবর্তীতে তারা মানুষের মাথার কুলি দেখতে পেয়ে তারা নিশ্চিত হন এটা মানুষের কংকাল। কংকাল পাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সৃষ্টি হয় চাঞ্চল্য । কংকালটি দেখার জন্য ওই জায়গায় জড়ো হতে থাকেন সাধারণ মানুষ। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচ্ছিন্ন কংকালটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর কংকালটির ডিএনএ টেষ্টের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে প্রেরণ করে।
এদিকে উদ্ধারকৃত কংকালটি নিখোঁজ সুপাতলা গ্রামের বাসিন্দা মৃত ছিফত আলীর পুত্র দিনমজুর হেলাল উদ্দিনের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কংকালের আকৃতি দেখেই এমনটি ধারণা করছে নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের পরিবার। নিখোঁজ হেলালের ছোট ভাই লাভু আহমদ জানান, আমাদের বড় ভাই হেলাল উদ্দিন ৪/৫ বৎসর ধরে প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি  মাসখানিক পূর্বে (জুনের শেষ দিকে) হঠাৎ একদিন রাতে বাড়ি থেকে বের হয় যান। এসময় বাড়ির চর্তুদিকে বন্যার পানি ছিলো। এরপর আমরা অনেক খোজাখুজি করেছি। কিন্তু না পেয়ে বিয়ানীবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরীও করেছি (যার নং-১৩০২.২৬/৭)। তিনি বিবাহিত হলেও তার কোন সন্তান ছিলো না এবং তিনি নিখোঁজ হওয়ার আগে মানসিকভাবে বিপর্যস্থ ছিলেন বলে তিনি জানান। লাভু বলেন, উদ্ধারকৃত কংকালের আকৃতি দেখে আমাদের ধারণা, এটি আমাদের হারিয়ে যাওয়া বড় ভাইয়ের।
এব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, “কংকালটি দেখে আমাদের ধারণা এটি মাসখানিক আগের হতে পারে। তবে এটার ডিএনএ টেষ্ট ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন,  আমাদের সাথে নিখোঁজ হেলালের পরিবারের কথা হয়েছে। তারা হেলাল উদ্দিন নিখোঁজের পর সাধারণ ডায়েরীও করেছিলেন। আমি তাদের ডিএনএ টেষ্টের কথা জানিয়ে দিয়েছি। টেষ্টে যদি কংকালটি নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাহলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে”।