গোলাপগঞ্জে ইমাম হোসেন হত্যা মামলার ২০ আসামী কারাগারে

মাহবুবুর রহমান চৌধুরী::

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার  শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের প্রবাসী ইমাম হোসেন হত্যা মামলার এজাহার নামীয় ১৬জন আসামীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার মামলার এজাহার নামীয় ১৬জন আসামী প্রায় দেড়মাস পলাতক থাকা অবস্থায়  সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্যাট আদালত-১ (গোলাপগঞ্জ) এ আত্মসমর্পন করে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।  এর আগে গত রবিবার মামলার প্রধান আসামী নুরুল ইসলামকে পলাতক অবস্থায় জনতার সহযোগীতায়  গ্রেফতার করেছে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানা পুলিশ। ঐদিন রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বড়লেখা থেকে নুরুলকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সিলেটের কাছে হস্তানান্তর করা হলে পরদিন আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।  এছাড়া হত্যাকান্ডের দিন আরো তিন আসামীকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে দেয়। এনিয়ে মোট ২০জন আসামী বর্তমানে কারাগারে রয়েছে এবং পলাতক রয়েছে আরো ৬জন। গত ২৩জুন শুত্রবার জুমআর নামাজে যাওয়ার পথে নির্মম পৈশাচিক কায়দায় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে প্রবাসী ইমাম হোসেনকে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। এই ঘটনায় গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় দায়েরকৃত  মামলার এজাহার নামীয় প্রধান আসামী নুরুল ইসলামসহ  ২৬জন আসামীর মধ্যে ২০জন আসামী বর্তমানে কারাগারে। মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি মোঃ আব্দুল মুনিম এনাম বিয়ানীবাজারকন্ঠকে জানান, পুলিশের প্রস্তুতকৃত লাশের সুরতহাল  প্রতিবেদন অনুযায়ী নিহত ইমামের শরীরের বিভিন্ন অংশে  ২৬টি ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিলো। এছাড়া নিহতের হাত পা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলো। তিনি আরো বলেন, আশা করি নির্মম পৈশাচিক এ হত্যাকান্ডের জন্য আদালতে আমরা (বাদীপক্ষ) ন্যায় বিচার পাবো। বিয়ানীবাজারকন্ঠ’র অনুসন্ধানে জানাগেছে প্রায় দুবছর ধরে উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কদুপুর গ্রামের মৃত আতাব আলীর ছেলে নিহত  ইমাম হোসেন ও তার প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেনের গোষ্টীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুইবছর পূর্বে  দু’পক্ষে সংঘর্ষ হলে ইমাম হোসেনের পক্ষের লোকজন আনোয়ার হোসেনের উপর হামলা চালিয়ে তার একটি পা ভেঙ্গে দেন। এর পর থেকে আনোয়ার হোসেনের আত্মীয় স্বজনরা এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। ঘটনার দিন  শুক্রবার জুম্মার নামাজে যাওয়ার পথে  ইমাম কে একা পেয়ে আনোয়ার হোসেনের লোকজন বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে । এতে ঘটনাস্থলেই ইমাম নিহত হন। গোলাপগঞ্জ থানার ওসি একে এম ফজলুল হক শিবলী ঐদিন এ প্রতিবেদককে বলেন, এটা অত্যন্ত নির্মম ঘটনা, দুই বছর আগের ঘটনার জেরে এভাবে একজনকে কুপিয়ে কেউ খুন করতে পারে তা মেনে নেয়া যায়না।  নিহত ইমামের বড় ভাই নজির হোসেন বলেন ‘কোন মানুষ অন্য মানুষকে এভাবে কেটে টুকরো টুকরো করতে পারে তা অবিশ্বাস্য।’ ইমাম হত্যার ঘটনায় তার ভাই আলী হোসেন  বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় ২৬ জন কে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন এবং মামলাটি পরবর্তীতে সিআইডিতে হস্তানান্তর করা হয় যার জিআর নং ৯১/২০১৭।
এদিকে এরকম খুনের ঘটনা এই ইউনিয়নে নতুন নয়  মাত্র দু বছর পূর্বে  কদুপুরের পার্র্শ্ববর্তী গ্রাম বসন্তপুরে পবিত্র রমজান মাসে প্রতিপক্ষের হামলায় এভাবে দু ব্যক্তি খুন হয়েছিলেন। এছাড়া কয়েক বছর পূর্বে ধানক্ষেতে  বায়ু ত্যাগ করা নিয়ে দুই কৃষকের কথা কাটাকাটির জেরে সৃষ্ট সংঘর্ষে ৪জন খুন হওয়ার ঘটনা ঘটে। একই ইউনিয়নের মেহের পুর গ্রামে প্রায় ১বছর পূর্বে  প্রতিপক্ষের হামলায়  দুজন নিহত হন। চলতি বছরের  ২৩ জুন  প্রবাসী ইমাম উদ্দিন খুন হন।