গো-রক্ষার নামে নিজের ফাঁদেই পড়েছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,বিয়ানীবাজারকণ্ঠ.কম

ভারতে গরু রক্ষা করতে গিয়ে বিপাকে পড়বেন কৃষকরা়, এমন আশঙ্কাই সত্য হলো। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, গবাদি পশু জবাইয়ে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা টানা হলে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরাই।

এত দিন এই আশঙ্কার কথা বলছিল কৃষক সংগঠনগুলো। এতে সম্মতিও জানিয়েছিল অর্থনীতিবিদরা।

যদিও আর্থিক সমীক্ষার কোথাও সরাসরি গবাদি পশু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা বা গোরক্ষক বাহিনীর উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু বলা হয়েছে, কর্মক্ষমতা হারানোর পরে গবাদি পশুর দামের উপরেও পশুপালকদের রুটিরুজি নির্ভর করে। এমনিতেই কৃষিক্ষেত্রে আয় নিম্নমুখী।

কোনও ‘সামাজিক নীতির’ জেরে পশুর মাংস বেচে আয় বন্ধ হলে এবং বুড়িয়ে যাওয়া গবাদি পশুকে বসিয়ে খাওয়াতে হলে, চাষি-পশুপালকদের আয় আরও কমবে। এর ফলে সমাজে ক্ষতিই হবে।

আর্থিক সমীক্ষা তৈরি করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি তা সংসদে পেশ করেছেন।

মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতে গোমাংস নিয়ে বাড়াবাড়ি শুরু। এক দিকে গোমাংস রাখার অভিযোগে একের পর এক পিটিয়ে খুন। অন্যদিকে গোমাংসে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা টানার চেষ্টা।

হাটেবাজারে কোনও গবাদি পশুই জবাইয়ের উদ্দেশ্যে কেনাবেচা করা যাবে না বলে নিয়ম জারি করেছিল কেন্দ্র। সুপ্রিম কোর্ট তার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক বিকাশ রাওয়াল বলেন, ‘প্রতি বছর ৩.৭ কোটি পুরুষ গরু-মোষ জন্ম হয়। জবাই বন্ধ হলে এদের খাবারের পিছনে বছরে ৫.৪ লাখ কোটি রুপি খরচ। এই আর্থিক দায়ভার কি সরকার বইতে রাজি?’