বন্যা ভয়াবহ আকার নিচ্ছে

বিয়ানীবাজারকণ্ঠ.কম ডেস্ক :

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে দেশের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে দেশের লাখ লাখ মানুষ। প্রায় প্রতিটি নদীতে পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীভাঙনও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্লাবিত হয়েছে কয়েকশ গ্রাম। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। বন্যাদুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সঙ্কট। মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশু-পাখিরও তীব্র খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস মতে দেশের প্রধান নদ নদীতে পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। রবিবার দেয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, উত্তরাঞ্চলে বহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় আগামী ৭২ ঘণ্টায় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। পূর্বাঞ্চলে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানিও বাড়তে পারে।

বিয়ানীবাজারে ডুবে গেছে ফসল::

টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল আর সুরমা নদীর পানি বাড়ায় বিয়ানীবাজার উপজেলা ফের বন্যা দেখা দিয়েছে। এবারেও তলিয়ে গেছে প্রায় বেশ কয়েকটি গ্রামের রাস্তাঘাট সহ আমন ক্ষেত।

সোমবার সকালে কুশিয়ারা নদীর বেশ কয়েকটি পয়েন্ট পানি বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে ২য় দফা বন্যায় আমন ক্ষেত ও বীজ তলা তলিয়ে যাওয়া দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বিয়ানীবাজারের কৃষিকরা ।

বিশ্বনাথে ফের বন্যা : ২৫ গ্রাম প্লাবিত ::
টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল আর সুরমা নদীর পানি বাড়ায় সিলেটের বিশ্বনাথে ফের বন্যা দেখা দিয়েছে। গত এপ্রিলের অকাল বন্যার পর এবারেও তলিয়ে গেছে প্রায় ২৫ টি গ্রামের রাস্তাঘাট সহ ১২০ হেক্টর আমন ক্ষেত।

তবে, রোববার পর্যন্ত কোন ঘর-বাড়িতে বানের পানি না উঠলেও সুরমা নদীর দু’তীর প্লাবিত হয়ে লামাকাজি ইউনিয়নের প্রায় ২৫টি গ্রামের রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর মধ্যে লামাকাজির মাহতাব পুর, মির্জারগাঁও, সোনাপুর, উদয়পুর, পাঠানরগাঁও, মিরপুর, ভুরকী, ইসবপুর, হামজাপুর, মোল্লারগাঁও, দোকানীপাড়া, আতাপুর, হাজরাই, মান্দাবাজ, শাহপুর, মাধবপুর, সাঙ্গিরাই, রসুলপুর, মাখরগাঁও, হেকুরা গাঁও, সাহেব নগর। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রোববার পর্যন্ত অঝর ধারায় বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার বিভিন্ন নদী-নালা, খাল-বিল-ও হাওরে পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া ও ইউপি সদস্য এনামুল হক সরকারিভাবে বরাদ্দের দাবি জানিয়ে বলেন, বন্যার পানি ক্রমেই বাড়ছে, ফলে ধীরে ধীরে এ ইউনিয়নের ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনের কথা জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, ভয়ের কোন কারণ নেই। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত আছে।

সুনামগঞ্জে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত ::

সুনামগঞ্জে বন্যার পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। অবিরাম বর্ষণে জেলার নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে জেলার লক্ষাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে পথ ঘাট ও ফসলি জমি। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার অনেক সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, রবিবার সকাল ১০টায় সুরমা নদীর ষোলঘর পয়েন্টে পানি ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৮১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া পানিতে রোপা আমনের ৬৬৫ হেক্টর বীজতলা তলিয়ে গেছে। তাহিরপুর উপজেলার সাত ইউনিয়নের লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। উপজেলার রক্তিনদীর পার্শ্ববর্তী আনোয়ারপুর বাজার ব্রিজ ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। খেটে খাওয়া মানুষরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। খাবার না পেয়ে অনেক মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, বন্যায় পানিবন্দী মানুষের জন্য জেলার ১১টি উপজেলায় তিন মেট্রিকটন করে জিআর চাল ও শুকনো খাবারের জন্য ১০ হাজার করে জিআর ক্যাশ দেয়া হয়েছে। তবে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।