পশুর চামড়াগতবারের দামেই কেনার ঘোষণা

বিয়ানীবাজারকণ্ঠ.কম

গত বছরের দামেই কোরবানির পশুর চামড়া কেনার ঘোষণা হয়েছে। ঢাকার ভেতর চামড়া কেনা হবে বর্গফুটপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা করে এবং ঢাকার বাইরে কেনা হবে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা করে।

রবিবার সচিবালয়ে চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার পর এই দাম ঘোষণা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি জানান, খাসির চামড়া সারাদেশে বর্গফুট ২০ থেকে ২২ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মহিষের চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়নি।

এই দাম লবণযুক্ত চামড়ার জন্য প্রযোজ্য হবে, নাকি লবণ দেওয়ার আগে- সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মহিষের চামড়ার দাম কেন নির্ধারণ করা হয়নি-জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের ধারণা নেই। এটা বাজারের ওপর ছেড়ে দিলাম।’

২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে পশুর চামড়ার দাম বর্গফুটপ্রতি পাঁচ টাকা কমান হয়েছিল।

চামড়ার দাম কমলে ভারতে তা পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ে। এ কারণে গত বছরই কোরবানির পর পর দাম কমা নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন তারা।

চলতি বছর আগের বছরের সমান দাম রাখার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চামড়া ব্যবসায় মন্দা। হাজারীবাগে ১৫৫ টি চামড়া শিল্প বন্ধ হয়ে গেছে। সাভারে গেছে এগুলো। এ মাসের মধ্যে ১০০ টি চালু হবে। ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে এবার চামড়ার দাম বাড়ানো হয়নি। আগের দামই রাখা হয়েছে।’

প্রতি বছর যত পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়, তার অর্ধেকই পাওয়া যায় কোরবানির সময়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে গত বছর ৪০ লাখেরও বেশি গরু, ২২ লাখের বেশি ছাগল এবং প্রায় দুই লাখ অন্যান্য পশু বিক্রি হয়েছিল।

এদিকে এবারও চামড়া পাচার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘সীমান্তেও নজরদারি বাড়ান হবে।’