হবিগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা হত্যায় আট জনের ফাঁসির আদেশ

বিয়ানীবাজারকণ্ঠ.কম

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা গ্রামে ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান মহসিন টিপুকে হত্যার দায়ে আট জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে একটি আদালত। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তিন জনকে বেখসুর খালাস দিয়েছেন বিচারক।

বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাফরোজ পারভীন এই আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের ফাঁসির আসামিদের মধ্যে পাঁচ জন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে ১০ জনই পলাতক।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন, সুধাংশু সূত্রধর, সুভাষ সূত্রধর, এরশাদ আলী, আব্দুল মালেক ওরফে মালু, আতাউর রহমান, আবুল কাশেম, আবু লাল ও মোশারফ হোসেন।

এদের মধ্যে সুধাংশু সূত্রধর, সুভাষ সূত্রধর ও আব্দুল মালেক ওরফে মালু  রায় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন: হরমুজ আলী, মোস্তাক আহমেদ, জানু মিয়া, শানু ভূঁইয়া, জাবেদ মিয়া, জহির মিয়া, বকুল মিয়া, আমির আলী, দুলাল মিয়া, সায়েদ মিয়া ও কামাল মিয়া।
এদের মধ্যে কেবল সায়েদ মিয়া রায় ঘোষণাকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শাহ আব্দুল গনি, আবু মিয়া ও আব্দুল মজিদকে বেখসুর খালাস দেয়া হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান মহসিন টিপুকে রাতে তার ঘরে প্রবেশ করে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার দুই দিন পর টিপুর স্ত্রী হাসিনা আক্তার বেবী মাধবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

২০১৩ সালের নভেম্বর মাসের ৩ তারিখে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কামরুজ্জামান ২২ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান তালুকদার।

এই রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ায় তা অনুমোদনের জন্য এখন হাইকোর্টে পাঠানো হবে। সেখানে রায় আসার পর আবার আপিল বিভাগে শুনানি হবে। এরপর কার্যকর করা হবে রায়।