সিনহাকে অক্টোবরের মধ্যে পদত্যাগে আল্টিমেটাম

বিয়ানীবাজারকণ্ঠ.কম

প্রধান বিচারপতির সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে অক্টোবরের মধ্যে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে সরকারপন্থী আইনজীবীদের সমাবেশে। দাবি পূরণ না হলে অক্টোবরে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও এসেছে।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের দক্ষিণ হলে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের এক সমাবেশে এই ঘোষণা এসেছে।

ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ ও ‘অবমাননাকর’ বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশ করে পরিষদ।

প্রধান বিচারপতি শপথ ভঙ্গ করেছেন দাবি করে তাপস বলেন বলেন, ‘শপথ ভঙ্গের কারণে তিনি আর সেই পদে আসীন থাকতে পারেন না।’ অক্টোবরের মধ্যে প্রধান বিচারপতিকে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রায় দেওয়ার সময় কেউ যদি রাগ-বিরাগ বা ভীত হয়ে রায় দেয়, সেই রায় কোনোদিনও আইনসিদ্ধ হতে পারে না এবং সেটাও একটি আইন ভঙ্গের শামিল। সুতরাং সবদিক থেকে আপনারা অযোগ্য হয়ে গেছেন। এই প্রধান বিচারপতির পদটি ধরে রাখার আপনার আর কোনো যোগ্যতা নেই। তাই আগামী অক্টোবরের আগেই আপনি এই পদ থেকে চলে যাবেন।’

অক্টোবরের মধ্যে প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব না ছাড়লে ‘এক দফা এক দাবি’র আন্দোলন শুরুর ঘোষণাও আসে সমাবেশে। তাপস বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সাহেবের অপ্রাসঙ্গিক, অগণতান্ত্রি ও অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যগুলো এক্সপাঞ্জ করার আমরা যে সুনির্দিষ্ট আহ্বান রেখেছিলাম, সেই দিন আজ শেষে হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টে ছুটিতে (অবকাশে) যাচ্ছে। আগামী ৩ অক্টোবর আবার আমাদের কর্মজীবন শুরু হবে। তবু আমাদের আন্দোলন চলবে, সংগ্রাম চলবে এবং আমাদের এক দফা দাবিতে সেই আন্দোলনে আমরা ফলপ্রসু পরিণতিতে যাব।’

ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য বলেন, ‘একজন বিচারপতির যে কোড অব কনডাক্ট রয়েছে, সেটা পালনপূর্বক তিনি অচিরেই তার পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলেই আমরা এই সুনির্দিষ্ট দাবি রাখছি।’

প্রধান বিচারপতির সব অনুষ্ঠান এবং যেসব কর্মসূচিতে তিনি প্রধান অতিথি থাকবেন সেগুলো বর্জনের ঘোষণাও আসে সমাবেশে। তাপস বলেন, ‘আমরা এসকে সিনহা সাহেবের সকল কর্মকাণ্ড, কর্মসূচি অবশ্যই বর্জন করব, প্রত্যাখ্যান করব এবং পরিহার করব। কোনো আইনজীবী তার (প্রধান বিচারপতির) কোনো প্রোগ্রামে যাবেন না।’

আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক আইনজীবী শম রেজাউল করিম বলেন, ‘তিনি (প্রধান বিচারপতি) কথায় কথায় যে ভারতের তুলনা করেন সেই ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় তাদের সংসদ বাতিল করে দিয়েছে। এটা এসকে সিনহার না জানার কথা নয়। যদি সংসদ মনে করেন, উনি যে রায় দিয়েছেন তা অসঙ্গতিপূর্ণ, অনাকাঙ্খিত ও অপ্রত্যাশিত। তাহলে এ রায়তো সংসদও (বাংলাদেশের) বাতিল করে দিতে পারে।’

‘আমাদের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যদি অন্য কোনো আইন প্রনয়ণ করা হয়, যে আইন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তাহলে যতটুকু সাংঘর্ষিক ততটুকুই বাতিল করা হবে। সেখানে ‘অন্য’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের সংসদ তো ‘অন্য’ কোনো আইন প্রণয়ন করেনি। আমাদের সংসদ সংবিধানে যেটা ছিলো সেটাকে পুনরায় ফেরত এনেছে। সেটা অন্য কোনো আইন না। কাজেই সংবিধানের সঙ্গে এটাকে আল্ট্রা ভায়ার্স করার সুযোগ ছিল না।’

সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘আপনাকে (প্রধান বিচারপতি) অবশ্যই বন্ধের (সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ) মধ্যেই এই পর্যবেক্ষণ প্রত্যাহার করতেই হবে। তা না হলে, আমরা যে কর্মসূচি দেবো সেটা আপনি ভাবতেও পারছেন না। আইনজীবী সমাজকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব।’

সংসদ সদস্য সানজিদা খানম, সংসদ সদস্য নূর ইসলাম সুজন, আইনজীবী লায়েকুজ্জামান মোল্লা, আইনজীবী আজহারুল হক ভূঁইয়া পমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।