নিষ্প্রাণ মাধবকুন্ডে ফিরেছে প্রাণ

এ.জে লাভলু, বড়লেখা প্রতিনিধি

ঈদ উৎসবে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকু- জলপ্রপাত এলাকা পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠেছে। প্রাণ ফিরেছে মাধবকু- ইকোপার্ক এলাকাতে। পর্যটকদের আগমনে হাসি ফুটেছে পর্যটন এলাকার ব্যবসায়ীদের মাঝেও। এর আগে অতিবর্ষণে টিলা ও সড়ক দেবে যাওয়ায় দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাস বন্ধ ছিল দেশের অন্যতম এ পর্যটন কেন্দ্রটি। ফলে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ে মাধবকু- জলপ্রপাত এলাকা। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। দেবে যাওয়া অংশ মেরামত করে পুনরায় গত ২০ আগস্ট থেকে উন্মুক্ত করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক সড়কের অন্তত ১০টি স্থান তলিয়ে গিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অন্যবারের তুলনায় পর্যটকের আগমন অনেকটা কম। গত তিনদিনে এ পর্যটন কেন্দ্রে আড়াই হাজারের মতো পর্যটকের আগমন ঘটে বলে জানিয়েছেন ইজারাদাররা।
সোমবার (০৪ সেপ্টম্বর) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ঈদ উৎসবে ঝর্ণাধারার সৌন্দর্য উপভোগ করতে মাধবকু- জলপ্রাপাত এলাকায় ভিড় করেছেন পর্যটকরা। ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন, পরিবার নিয়ে আসেন অনেকে। এদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় জলপ্রাতের ২০০ ফুট উপর থেকে তীব্র গতিতে নিচে পানি পড়তে থাকে। ফলে জলপ্রপাতের নিচু এলাকা ডুবে যায়। পর্যটকদের নিরাপত্তা কথা চিন্তা করে পর্যটন পুলিশ তাদের নিচে নামতে দেয়নি। যার কারণে উপরের সিঁড়ি থেকেই জলপ্রাপাতের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে হয়েছে তাদের। পর্যটকরা পানিতে নামতে পারেননি। এসময় জলপ্রপাত এলাকার জল গড়িয়ে পড়ার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য কেউ কেউ সেলফি তুলে  কেউবা প্রিয়জনের ছবি ক্যামেরাবন্দী করেন। এছাড়া ঈদের ছুটিতে হাকালুকি হাওর ও পাখি বাড়িতে দর্শনার্থীদের আগমন ঘটেছে।
নরসিংদী জেলা থেকে মাধবকু-ে বেড়াতে আসা কলেজ ছাত্র আরিফ আহমদ ও সজল দাস বলেন, ‘আমরা চার বন্ধু মিলে এসেছি। বন্যার কারণে সড়ক ডুবে গেছে। মাইক্রোবাসে এসেছি। কষ্ট হয়েছে অনেক। ভাড়াও বেশি দিতে হয়েছে। তবে মাধবকু- আসতে পেরে ভালোই লাগছে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মাধবকু-ে এবার পর্যটক অনেক কম। গত তিনদিনে প্রায় ১৫ হাজার টাকা বিকিকিনি হয়েছে। গত বছর এমন সময় লাখ টাকার মতো বিক্রি হয়েছিল।’
ইজারাদার মো. মুমিন উদ্দিন বলেন, ‘অন্যবারের চেয়ে এবার পর্যটক সংখ্যা খুবই কম। কারণ একদিকে দু’মাস বন্ধ ছিল। অন্যদিকে বন্যার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় দূর-দুরান্তের পর্যটকরা আসতে পারছেন না।’ ইজারাদার জানিয়েছেন, ঈদের দিন ৬০০, ঈদের পর দিন ১ হাজার ৩০০ এবং গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৫০০ পর্যটক এসেছেন।
মাধবকুন্ড পর্যটন পুলিশের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) আবু ফয়ছল মো. আতিক বলেন, ‘জলপ্রাপাত এলাকায় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যটন পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।’