দ্বিজেন শর্মার মৃত্যুতে বড়লেখার বিভিন্ন মহলের শোক

এ.জে লাভলু, বড়লেখা প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের বড়লেখার কৃতি সন্তান, প্রকৃতিবিদ ও বিজ্ঞান লেখক অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে শোক জানানো হয়েছে। তাঁর আত্মার শান্তি ও শোক সন্তুপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন- জাতীয় সংসদের হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী, হাইকোর্টের আইনজীবী তবারক হোসেইন, বড়লেখা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সিরাজ  উদ্দিন, লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক মুনজের আহমদ চৌধুরী, লেখক দিগন্ত সৌরভ, বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন, উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর, বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরারন চৌধুরী, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ দাস নান্টু, রেহানা বেগম হাসনা, দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির চেয়ারম্যান এনাম উদ্দিন, বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খসরু, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শরীফুল হক সাজু প্রমুখ।
বড়লেখা প্রেসক্লাবের শোক :
নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রেসক্লাব সভাপতি অসিত রঞ্জন দাস, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. গোপাল দত্ত, সাংবাদিক আব্দুর রব, লিটন শরীফ, মিজানুর রহমান, ইকবাল হোসেন স্বপন, কাজী রমিজ উদ্দিন, জালাল আহমদ, তপন কুমার দাস, রুয়েল কামাল, আদিব মজিদ, খলিলুর রহমান, এ.জে লাভলু প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, প্রকৃতিবিদ ও বিজ্ঞান লেখক অধ্যাপক দ্বিজেন শুক্রবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ছাড়াও ফুসফুসে সংক্রমণে ভোগা দ্বিজেন শর্মাকে হাসপাতালটির আইসিইউতেও রাখা হয়েছিল। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে গত ২৩ জুলাই দ্বিজেন শর্মাকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২৯ জুলাই তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। অবস্থার কিছুটা  উন্নতি হলে ১০ আগস্ট কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু আবারও অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৮ আগস্ট থেকে হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। সেখান থেকে গত বুধবার তাকে স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দ্বিজেন শর্মার মেয়ে শ্রেয়সী শর্মা লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি ফিরলে পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে থাকবে।
দ্বিজেন শর্মা ১৯২৯ সালের ২৯ মে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের (কাঁঠালতলী) শিমুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতা সিটি কলেজ থেকে স্নাতক অর্জনের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করেন।  তিনি উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে করিমগঞ্জ কলেজ, বিএম কলেজ ও নটরডেম কলেজে চাকরি করেছেন। পরে মস্কোর প্রগতি প্রকাশনে প্রায় ২০ বছর চাকরি করেছেন। এরপর দেশে ফিরে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিতে।
প্রকৃতি ও গাছগাছালির প্রতি ভালোবাসা  ও লেখালেখির কারণে দ্বিজেন শর্মাকে ‘নিসর্গসখা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, রাষ্ট্রীয় একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে। উদ্ভিদ ও প্রকৃতি নিয়ে লেখা তাঁর আকরগ্রন্থ ‘শ্যামলী নিসর্গ’। তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে-‘সপুষ্পক উদ্ভিদের  শ্রেণীবিন্যাস’, ‘ফুলগুলি যেন কথা’, ‘গাছের কথা ফুলের কথা’, ‘এমি নামের দুরন্ত মেয়েটি’, ‘নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা’, ‘সমাজতন্ত্রে বসবাস’, ‘জীবনের শেষ নেই’, ‘বিজ্ঞান ও শিক্ষা : দায়বদ্ধতার নিরিখ’, ‘ডারউইন ও প্রজাতির উৎপত্তি’, ‘বিগল যাত্রীর ভ্রমণ কথা’, ‘গহন কোন বনের ধারে’, ‘হিমালয়ের উদ্ভিদরাজ্যে ডালটন হুকার’, ‘বাংলার বৃক্ষ’ ইত্যাদি।
১৯৬০ সালে দেবী চক্রবর্তীর সঙ্গে দ্বিজেন শর্মার বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে সুমিত্র শর্মা আর এক মেয়ে শ্রেয়সী শর্মা।