বিয়ানীবাজারে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

স্টাফ রিপোর্টার

লোকালয় থেকে বিদায় নিচ্ছেন দেবী দুর্গা। হয় তো এ কারণেই বিকেলে মুখ ভার ছিল আকাশের। অবশ্য বিদায়ের প্রস্তুতি শুরু হয় সকাল থেকেই। মুখে পান পাতা বুলিয়ে, সিঁদুর ছুঁইয়ে মিষ্টি মুখ করিয়ে সারা হয় আনুষ্ঠানিকতা। বিষাদের সুর বাজে ম-পে ম-পে। শেষ পর্যন্ত ভক্তের মনে মেঘ আর আকাশে বিষাদের ঘন মেঘ জমিয়ে বিদায় নেন দুর্গতিনাশিনী।তবে বিষাদের মাঝেও ভক্তমনের সান্ত¡ না- মঙ্গলময় বার্তা নিয়ে সামনের বছর আবার আসবেন দেবী। এই আশার মধ্য দিয়েই শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শনিবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজন।
ভক্তদের চোখের জলে ভাসিয়ে এদিন সপরিবারে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা বাবার বাড়ি থেকে ফিরে গেলেন স্বামীর ঘরে কৈলাসে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসার মতো আসুরিক প্রবৃত্তি বিসর্জন দেয়াই মূলত বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। সনাতন বিশ্বাস ও বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসেন এবং স্বর্গালোকে বিদায় নেন ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে। যার ফল হচ্ছে রোগ, শোক, হানাহানি-মারামারি বাড়বে। তবে ভক্তদের বিশ্বাস, মঙ্গলময়ী ও আনন্দময়ী দেবী দুর্গা সবার কল্যাণই করবেন।

দেবীর বিদায়ের আয়োজন শুরু হয় সকাল থেকে। ম-পে ম-পে করা হয় দশমী পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন। বিষাদের সুর ছিল ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টাসহ বিভিন্ন বাদ্যে, ছায়া ছিল আলোকিত করা ধূপ আরতিতে এবং দেবীর পূজা-অর্চনায়। বিসর্জনের আগে সকাল থেকে বিয়ানীবাজারের  মন্দিরে মন্দিরে চলে সিঁদুর খেলা আর আনন্দ উৎসব। প্রতিমা বিসর্জনের উদ্দেশে পৌরশহরের ইসকন মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়।