এবার ভাঙল অভিনেত্রী নোভার সংসার

বিনোদন ডেস্ক ::

এবার বিবাহ বিচ্ছেদ হলো নাট্যপরিচালক ও নাট্যকার রায়হান খান ও মডেল, অভিনয়শিল্পী নোভার। গত আগস্টে বিচ্ছেদ হলেও এতদিন বিষয়টি তেমন আলোচনায় আসেনি। কিছুদিন ধরে ডালপালা ছড়ানোর পর নিজেই সাংবাদিকদের বিচ্ছেদের কথা জানিয়েছেন নোভা।

এই অভিনেত্রী জানান, গত ২৬ আগস্ট ঢাকা জজকোর্ট কাজি অফিসে তারা দুজনই তালাকনামায় স্বাক্ষর করেন। দেড় বছর প্রেমের পর ২০১১ সালের ১১ নভেম্বর তারা বিয়ে করেছিলেন। পারস্পরিক সম্মতিতে এই বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। সান্নিধ্য নামে তাদের একটি ছেলে আছে।

রবিবার নোভা প্রথম সারির একটি জাতীয় দৈনিককে বিবাহ বিচ্ছেদের কথা নিশ্চিত করেন।

বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে নোভা বলেন, ‘আমরা দুজন মিলেই বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সন্মান এখনো আছে। আমি চাই না আমার ছেলের বাবাকে কোথাও ছোট করতে। আর একটা কথা বলতে চাই, আমাদের বিচ্ছেদের পেছনে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির হাত নেই।’

বিচ্ছেদ কখনো সুখকর হয় না জানিয়ে নোভা বলেন, সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। আমরা মিডিয়ায় কাজ করি।

নোভা বলেন, সৃজনশীল মানুষরা একটু এলোমেলো স্বভাবের হয়। আমরাও এর বাইরে নই। রায়হানের অগোছালো জীবন আমি পছন্দ করতে পারছি না। আমার ও রায়হানের মধ্যে এসব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছে। আমি চাই না এটা আমার ছেলে জানুক বা দেখুক। আমার ছেলেকে আমি আমি সুস্থ পরিবেশে বড় করতে চাই। এ কারণে আমরা আলাদা হয়েছি। যদি কখনো আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান হয় তাহলে আমরা আবার এক হয়ে যেতে পারি।’

তবে বিবাহবিচ্ছেদের ৪৪ দিন পর কেন খবর জানাচ্ছেন- এমন প্রশ্নে নোভা বলেন, শুরুতে আমরাই চাইনি। এরই মধ্যে পরিচিত অনেকেই তা জেনে গেছেন। আমাদের নিজেদের সিদ্ধান্তে এই বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। আমরা খুব ভালো বন্ধু। আমাদের পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা আর সম্মান অটুট আছে। আমরা চাই না, আমাদের এই ছাড়াছাড়ি নিয়ে কোনো নোংরামি হোক।

তাহলে বিবাহবিচ্ছেদ কেন? নোভা বলেন, কিছু সমস্যা তো ছিলই। আমাদের ছেলে সান্নিধ্য বড় হচ্ছে। আমি চাইনি এই সমস্যাগুলো সান্নিধ্যকে স্পর্শ করুক। বাবার প্রতি ওর শ্রদ্ধা যেন এতটুকু নষ্ট না হয়। তাই সময় থাকতেই আমরা আলোচনা করে দূরে সরে গেছি।

কী এমন সমস্যা হলো, যা বিবাহবিচ্ছেদের আগে মেটানো সম্ভব হয়নি- এমন প্রশ্নে নোভা বলেন, আমি ডাল-ভাত খাব, কিন্তু কেউ আমাকে অপমান করবে, এটা সহ্য করব না।পাওনাদার কেন আসবে? রায়হানের অপরিকল্পিত জীবনযাপনের কারণে আমাকে নানাজনের কাছ থেকে অপমান হতে হয়েছে। আমার কাছে যা আছে, তাই নিয়ে আমাকে পরিকল্পনা করতে হবে। কিন্তু রায়হানের স্বভাব তেমন নয়। এটাই আমাদের মাঝে ঝামেলা তৈরির প্রথম কারণ।

অন্যদিকে নোভার স্বামী রায়হান খান বলেন, আমি ছিলাম বাড়ির ছোট ছেলে। কখনোই কোনো দায়িত্ব নিতে হয়নি। কিন্তু সংসার মানেই অনেক দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির তৈরি হয়। এটা পুরোটাই ছিল পারিবারিক। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল অর্থনৈতিক ব্যাপারও। ঝগড়া ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। আমাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। আমরা এই দূরত্বকে বাড়তে দিতে চাইনি। আমি এখনো আশাবাদী, আমি সমস্যাগুলো যদি কোনো দিন মেটাতে পারি, তাহলে নিশ্চয়ই নোভা আবার আমার সংসারে ফেরত আসবে।

নোভা রায়হান খানের দ্বিতীয় স্ত্রী। এর আগে রায়হান খান আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। ওই স্ত্রীর সঙ্গে অনেক আগেই রায়হান খানের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে। ওই সংসারে তাঁর একটি ছেলে আছে।