বিয়ানীবাজারের ভূমি জালিয়াত চক্রের সন্ধানে আইনশৃংখলা বাহিনী!

স্টাফ রিপোর্টার:

বিয়ানীবাজারের পল্লীতে এক ভয়ঙ্কর ভূমি জালিয়াতের বিরুদ্ধে আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। গত বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী ওই ভূমি জালিয়াতের অপকর্মের নানা বিষয় সরজমিন তদন্ত করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। উপজেলার আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত মছদ্দর আলীর ছেলে মো: নজরুল ইসলাম এসব ভূমি জালিয়াত চক্রের প্রধান বলে এলাকাবাসী জানান।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, কুড়ারবাজার ইউনিয়নের আঙ্গুরা মৌজার জে.এল নং ৫৭, খতিয়ান নং ৬৫, ১১৫, ১২৫, ১৬৭ ও দাগ নং ৫৬৮ তে ৪ শতক জমি মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে ক্রয় করা জাল দলিল মূলে নামজারী করান নজরুল। গত ২৭ আগষ্ট ১৮০০/১৭ নম্বর দলিলে ওই ভূমি সাফ কবালা ক্রয় করা হলেও বিক্রেতা আশাব আলী এবং তাহির আলী বেশ ক’বছর আগে মারা যান। মৃত ব্যক্তির নামে জমি রেজিষ্ট্রি করতে সহায়তা করেন দলিল লেখক মামুনুর রশীদ খান। পরে ওই তফশীলের জমি নিজ নামে নামজারী করে ২৪ সেপ্টেম্বর পুনরায় তা সাফ কবালায় বিক্রি করে দেন ভূমি জালিয়াত মো: নজরুল ইসলাম। ১৯৭২/১৭ নাম্বারের পৃথক দলিল সম্পাদন করেন একই দলিল লেখক মামুনুর রশীদ খান (সনদ নং ৫৭)।
পরে এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। এলাকাবাসীর পক্ষে কথিত দলিলদাতার ওয়ারিশ মো: হোসেন আহমদ আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে এ সংক্রান্ত অভিযোগ করলে তদন্তে প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসে। গত বৃহস্পতিবার দিনভর এ সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করে সিলেটের সিআইডি। জালিয়াত নজরুলের বিরুদ্ধে করগ্রাম মৌজায় আরো বেশ কিছু মূল্যবান জমি প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ আছে। এখানকার প্রায় ২৮বিঘা জমি জাল দলিলমূলে মো: নজরুল ইসলাম আত্মসাৎ করে নিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন একই এলাকার মাওলানা আব্দুস শহীদ। এ বিষয়ে মো: নজরুল ইসলাম জানান, আমি কারো কাছ থেকে জমি ক্রয় করিনি। তবে কিছুদিন আগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে উত্তরাধীকার সূত্রে প্রাপ্ত ৪শতক জমি বিক্রি করেছি। দলিল লেখক মামুনুর রশীদ খান বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখছি।