জিয়ার নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র: সিইসি

বিয়ানীবাজারকণ্ঠ ডেস্ক ::

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাতে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যুক্ত হন। এর মধ্য দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে সব দল অংশ গ্রহণ করে। তাতে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণ করে।

রবিবার বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সূচনা বক্তব্যে সিইসি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জিয়াউর রহমানসহ বিএনপি সরকারের নানা ইতিবাচক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

সকাল ১১টায় সিইসির সভাপতিত্বে নির্বাচন ভবনে বিএনপির সঙ্গে সংলাপ শুরু হয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ও দলনেতা হিসেবে জিয়াউর রহমান ছয় বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপি প্রায় নয় বছর আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়েছে। পরে ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে ২১০ আসনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে।’

সংলাপে অংশ নেয়া বিএনপি নেতাদের সম্পর্কে সিইসি বলেন, ‘আজকের সংলাপে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তাদের অনেকেই সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনা করেছেন। অনেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একাধিকবার নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনার ভূমিকা রেখেছেন।’

বিএনপি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে নূরুল হুদা বলেন, ‘দেশ পরিচালনাকালে বিএনপি সরকার দেশে বহুবিদ নতুন ধারার প্রবর্তন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলককরণ, পৃথক প্রাথমিক গণশিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন গঠন, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, আইন কমিশন গঠন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ বছরে উন্নীতকরণসহ অনেক উন্নয়ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম বিএনপি সরকার করেছে।

‘বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। তাদের সফল রাষ্ট্রপরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বৃহৎ রাজনৈতিক দল পরিচালনায়ও তাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে।’

তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আজকের সংলাপের দিকে জাতি তাকিয়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন অধীর আগ্রহ অত্যন্ত আন্তরিকতা নিয়ে, অতি ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করছে।’

কমিশন বিএনপির সঙ্গে সফল সংলাপ প্রত্যাশা করে বলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার মন্তব্য করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন  গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠুভাবে  অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনী অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ করছে ইসি। ইসি ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩১ জুলাই নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে ইসি। গত ২৪ আগস্ট থেকে সংলাপ চলছে ইসির নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে। এ পর্যন্ত ৩২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছে ইসি।

বিএনপির সঙ্গে সংলাপের পর সোমবার সকালে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বিকালে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), ১৮ অক্টোবর বুধবার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, ১৯ অক্টোবর সকালে জাতীয় পার্টি-জেপি ও বিকালে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর ২২ অক্টোবর পর্যবেক্ষক, ২৩ অক্টোবর নারী নেত্রী এবং ২৪ অক্টোবর নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপসূচি নির্ধারণ করেছে ইসি।