১৭ লাখ টাকাসহ ছয় ডিবি পুলিশ আটক

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার এক ব্যবসায়ীকে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে আদায় করা ১৭ লাখ টাকাসহ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ছয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল।

আজ বুধবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দরগার ছড়া সেনাবাহিনীর অস্থায়ী চেক পোস্টে তাদের আটক করা হয়।

সেনাবাহিনীর দেয়া তথ্যমতে, আটক পুলিশ সদস্যরা হলেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক তদন্ত ইয়াসিন আরফাত, এসআই আবুল কালাম আজাদ, গোলাম মোস্তফা, ফিরোজ আহমদ, এসআই আলা উদ্দিন, এএসআই নুরুজামান, সিপাহী মোস্তফা আলম।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফের সাবরাং রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কার্র্যক্রম পরিচালনায় স্থাপিত সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের প্রধান মেজর নাজিম আহমেদ।

মেজর নাজিম  জানান, টেকনাফ পৌরসভার দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার মৃত হোসেন আহমদের ছেলে ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে আটকে মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার শহর থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে একটি দল মুক্তিপণ দাবি করছে বলে অভিযোগ করেন তার বড় ভাই পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ওরফে লেরু। তারই সূত্র ধরে মুক্তিপণের ১৭ লাখ টাকা দিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নেয়া হয়। টাকা নিয়ে চট্ট মেট্রো-চ ১১-৯০৭৯ নম্বরের একটি মাইক্রোবাসে করে ডিবি পুলিশের সাতজনের একটি দল বুধবার ভোরে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। ভোর সাড়ে চারটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরগার ছড়ার সেনাবাহিনী চেকপোস্টে মাইক্রোবাসটি তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় গাড়ি থেকে  মুক্তিপণের ১৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

তল্লাশি চলাকালে ডিবি পুলিশের এসআই মনিরুজ্জামান দৌড়ে পালিয়ে গেলেও অপর ছয়জনকে আটক করে নয়াপাড়া অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পে নেয়া হয়।

মেজর নাজিম আহমেদ আরও বলেন, ওই ক্যাম্পে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে আলোচনা হয়। পরে মুচলেকা দিয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার ড. এস এম ইকবাল হোসেন তাদের নিয়ে যান। মুক্তিপণের ১৭ লাখ টাকা ওই ব্যবসায়ীকে ফেরত দেয়া হয়েছে বলে জানান সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা।

ব্যবসায়ী আবদুল গফুর জানান, মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের থানা রোড সংলগ্ন আল গনি রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়ে বের হওয়ার সময় মাইক্রোবাস যোগে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় অজ্ঞাত একটি বাড়িতে। মাইক্রোবাসে তোলার সময়ই তার চোখ বেঁধে ফেলা হয় কালো কাপড় দিয়ে।  পরে টানা রাত পর্যন্ত তাকে নানাভাবে নির্যাতন চালানো হয় ওই বাড়িতে। এরপর রাত আড়াইটার দিকে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে মেরিন ড্রাইভে নিয়ে গিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এ সময় ডিবি পুলিশ তার কাছ থেকে এক কোটি টাকা দাবি করে। প্রাণের ভয়ে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হন।

নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে আবদুল গফুর বলে, ‘তারা আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বলেন, টাকা চাও নাকি জান চাও, যদি জান হাও তাহলে দাবিকৃত টাকা দাও। এমনকি ইয়াবা দিয়ে আমাকে ছবি তোলে তারা।’ এরপর ভোরে টাকা পেয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানান তিনি।

পুলিশ সুপার ড. এস এম ইকবাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় আটক ছয়জনসহ সাত ডিবি পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় মামলা রুজু করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।