বেঁচে যাওয়া ব্যবসায়ী হাফিজ উদ্দিনের বর্ণনায় মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনা..

সুফিয়ান আহমদ::::

“গত কয়েকদিন পূর্বে আমরা কয়েকজন ব্যবসায়ী পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেই কক্সবাজারের উখিয়ায় আশ্রয় নেয়া অসহায় রোহিঙ্গাদের দেখতে যাবো। কথা বলে রাজিও হন অনেকে। সে মোতাবেক আমরা জামান প্লাজার কয়েকজন ব্যবসায়ী ৩ দিন আগে বিয়ানীবাজার থেকে একটি গাড়ি রিজার্ভ করে কক্সবাজারের উখিয়ায় গিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় লক্ষাধিক টাকার কম্বল বিতরণ করি। একসাথে আমরা ৮ জন। মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে যেতে যেতে আমরা দারুণ উপভোগ করেছি সময়টা। রোববার রাত ১১ টার দিকে আমরা কক্সবাজার থেকে রওয়ানা হই। এসময় আমাদের সফর সঙ্গী ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন সেখানে থেকে যাওয়ায় বাবুল হোসেন নামের আমাদের এক ছোট ভাই আমাদের সাথে আসে। যদিও সে গিয়েছিলো রোটারেক্ট ক্লাবের অনুষ্টানে আরো ৩ জনের সাথে। কিন্তু আসার সময় সে আমাদের সাথে আসে। নরসিংদীতে আসার পূর্বে রাত ৪ টার দিকে আমরা গাড়ী থামিয়ে সকলে চা পান করি। সময় বেঁচে যাওয়া আমাদের অপর সঙ্গী দেলোয়ার চলে আসে নিহত রেজাউল করিমের সিটে। আমি ছিলাম ড্রাইভারের ঠিক পাশের সিটে আর দেলোয়ার ছিলো আমার ঠিক পিছনের সিটে। এভাবে আমরা আসছিলাম। রাত পেরিয়ে যখন ভোর তখন আমাদের মাইক্রো মাধবদীর কান্দাইলে বাসস্ট্যান্ড অতিক্রম করার পর হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে দেখলাম একটি বাস আসলো। মুহুর্তেই আমার চোখের সামনেই মারা গেলো জুবের, ইকবাল,খয়ের ভাই ও ড্রাইভার বাবুল। আমি আর দেলোয়ার বেঁচে গেলাম সবার দোয়ায়। আর হাসপাতালে নেয়ার পর করিম ও বাবুল মারা যায়”- এভাবেই সোমবার ভোরে নরসিংদীর মাধবদীর কান্দাইলে সড়ক দূর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যবসায়ী হাফিজ উদ্দিন ঘটনার বিবরণ দেন। মাইক্রোবাসের ৮ জন যাত্রীর মধ্যে ৭ জনই ছিলেন বিয়ানীবাজারের পরিচিত ব্যবসায়ী। হাফিজ উদ্দিনের মত ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান আরেক ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন। তবে ঘটনায় দেলোয়ার হোসেনের আপন ফুফাতো ভাই জুবের আহমদ নিহত হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। যার কারণে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয় নি।
প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সহায়তা দিয়ে বিয়ানীবাজার আসার পথে গত সোমবার ভোরে নরসিংদীর মাধবদীর কান্দাইলে বাসের সাথে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহত হন বিয়ানীবাজার পৌরশহরের জামান প্লাজার শখ কসমেটিক্সের সত্ত্বাধিকারী খায়রুল বাশার খান (৩৪), রূপসী ফ্যাশনের রেজাউল করিম (৩২), মতিন ক্লথ ষ্টোরের জুবের আহমদ (৩২), মরটিন কয়েল’র ডিলার বুরহান উদ্দিন ইকবাল (৩১), বাবুল হোসেন (৩০) ও গাড়ি চালক বাবুল আহমদ (৩১)। এতে আহত হন মাইক্রোবাসের অপর যাত্রী একই মার্কেটের হাফিজ ক্লথ ষ্টোরের সত্ত্বাধিকারী হাফিজ উদ্দিন ও জারী ফ্যাশনের সত্ত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন। মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজ মাঠে নিহতদের জানাজার পর মরদেহ চিরনিদ্রায় পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।