বড়লেখায় জলমহাল থেকে মাছ চুরির সময় গ্রেপ্তার ২০

বড়লেখা প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরের বড়লেখা অংশের গ্রুপবদ্ধ জলমহাল থেকে মাছ চুরির সময় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (০৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১১টায় হাওরের জল্লা, ফারজল্লা, বালিজুড়ি ও ভূতেরকোনা গ্রুপবদ্ধ জলমাহল থেকে মাছ চুরির সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এসময় মাছ চুরিতে ব্যবহৃত দুইটি নৌকা ও ২ হাজার ৩’শ ফুট বেড় জাল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় শ্রীরামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সহসভাপতি আবুল হোসেন বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় মামলা করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মঙ্গলবার (০৭ নভেম্বর) আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, হাকালুকি হাওরের শ্রীরামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির লীজকৃত জল্লা, ফারজল্লা, বালিজুড়ি ও ভূতেরকোনা গ্রুপবদ্ধ জলমাহল থেকে প্রায়ই গ্রেপ্তারকৃতরা মাছ চুরি করে নিয়ে যায়। সোমবার দিবাগত রাতে গ্রেপ্তারকৃতরা বিলে প্রবেশ করে বেড় জাল দিয়ে মাছ ধরছিলো। মাছ চুরির বিষয়টি বুঝতে পেরে বিলের মালিক ও পাহারাদাররা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করেন। এ সময় শিকার করা মাছসহ একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে কয়েকজন পালিয়ে যায়।

বিল মালিকের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাত পৌনে ১১টায় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দেবদুলাল ধর ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইটি নৌকা ও ২ হাজার ৩’শ ফুট বেড় জাল জব্দ করে এবং মাছ চুরির সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে। পরে জব্দ করা দুইটি নৌকা স্থানীয়দের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে-কামিল আহমদ (১৯), হাবিবুর রহমান (২২), খোকন আহমদ (৩০), সুবোধ আলী (৩৫), আক্তার হোসেন (৩৫), সুমন আহমদ (২০), কাওছার আহমদ (১৯), ফরিদ মিয়া (২০), কবির হোসেন (২৪), রবিন আহমদ (১৯), ইব্রাহিম মিয়া (২০), মানিক মিয়া (৩৫), মন্টু মিয়া (২৪), মোহাম্মদ ইলিয়াছ আলী (২০), মঙ্গল মিয়া (২২), সবুজ মিয়া (২০), মিজান আলী (২২), শুক্কুর মিয়া (৩৫), আবুল হোসেন (২৫), মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম (৪০)। তাদের সবার বাড়ি জেলার জুড়ী উপজেলায়।

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সহিদুর রহমান মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।’