রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,

??????????? ???????? ?????? ???? ????????? ??????? ?????

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এছাড়া মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী রাখাইন রাজ্যে আর যেন বাড়াবাড়ি না করে সেজন্য মিয়ানমার সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে পরিষদ।

গত সোমবার রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মিয়ানমার পরিস্থিতিতে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত প্রেসিডেনশিয়াল বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

পরিষদের পক্ষে বিবৃতিটি পড়ে শোনান নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ইতালির স্থায়ী প্রতিনিধি সিবাসতিয়ানো কার্ডি।

বিবৃতিতে রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে শক্তি প্রয়োগ করে ভীতিকর অবস্থা তৈরি করা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে নারী-পুরুষ-শিশুদের। নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা চালানো হচ্ছে এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস ও জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।

চীনের আপত্তির কারণে মিয়ানমারের ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদ কোনো প্রস্তাব আনতে পারছে না আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমন তথ্যের মধ্যেই চীনসহ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী-অস্থায়ী সব সদস্যের সম্মতিতে ওই বিবৃতি গৃহীত হয়েছে।

বিবৃতিতে ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত বর্ণনাতীত সহিংসতার নিন্দা জানানো হয়েছে এবং সেখান থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত মিয়ানমারের নাগরিকদের মানবিক সহায়তা দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করা হয়েছে।

বিবৃতিকে গত এক দশকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের সবচেয়ে কঠোর বিবৃতি বলে মন্তব্য করেছে বার্তা সংস্থা এপি।

বাংলাদেশ এই বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে নাখোশ হয়েছে মিয়ানমার। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানায়, নিরাপত্তা পরিষদের এ বিবৃতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিষয়ে এ পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এটি পরিষদে গৃহীত দলিল হিসেবে লিখিত থাকবে।

জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি হাও দো সুয়ান বলেন, সভাপতির বিবৃতিতে মিয়ানমারের ওপর যে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে তা সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে না। রাখাইন আরসার সন্ত্রাসী হামলার ফলেই চলতি দুর্যোগের উদ্ভব।

তাঁর দাবি, ওইসব বিদ্রোহীর সঙ্গে বিদেশি জঙ্গিরাও হাত মিলিয়েছে, যাদের মধ্যে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি জঙ্গিরাও রয়েছে। শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে নীতিগত মতৈক্য অর্জিত হলে দুই দেশের সরকার একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করবে, তারপরই শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু হবে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন পরিষদ সভাপতির বিবৃতির জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই বিবৃতির ভিত্তিতে সংকট সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, তবে যা করার দ্রুত করতে হবে।

মোমেন বলেন, ‘সংকট সমাধানের জন্য আমরা সব সময়ই প্রস্তুত রয়েছি এবং আমাদের যা করণীয় তা করে যাচ্ছি। কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে চাই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদ যতক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয়ে যথাযথ দায়িত্ব গ্রহণ না করবে ততক্ষণ দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’ মাসুদ বিন মোমেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতেও মিয়ানমার বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণে সব সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাশা করেন।