তিন মন্ত্রী এক প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন

বিয়ানীবাজারকণ্ঠ.কম

সরকারের মেয়াদের চার বছরের মাথায় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে তিনজন মন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ পড়ান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সন্ধ্যা ছয়টা ২৮ মিনিটে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

এরপর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। তিনি প্রথমে নতুন মন্ত্রীদের শপথ নিতে আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নতুন তিন মন্ত্রী-নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, মোস্তাফা জব্বার ও এ কে এম শাহজাহান কামালকে শপথবাক্য পাঠ করান।

এরপর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন কাজী কেরামত আলী।

শপথ নেওয়ার পর তিন মন্ত্রী টেবিলে বসে শপথবাক্যে স্বাক্ষর করেন। পরে প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়ে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

নতুন তিন মন্ত্রীর মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা নারায়ণ চন্দ্র চন্দ পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হলেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার, লক্ষ্মীপুরের সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামালও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন।

আর রাজবাড়ীর এমপি কাজী কেরামত আলী প্রতিমন্ত্রীর হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

বিজয় বাংলা কি-বোর্ডের উদ্ভাবক মোস্তাফা জব্বার (৬৮) যেহেতু সংসদ সদস্য নন, তাকে মন্ত্রিসভায় নেয়া হয়েছে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে। তাকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

শাহাজাহান কামালকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং কেরামত আলীকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।

মন্ত্রিসভার নতুন এই সদস্যদের বঙ্গভবনে নিয়ে যেতে বিকালে সচিবালয় থেকে পাঠানো হয় চারটি গাড়ি। শপথের জন্য বিকাল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে তারা সবাই বঙ্গভবনে পৌঁছে যান।

৭২ বছর বয়সী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ খুলনা-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনবার। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠন করলে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

নতুন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পরিচিত উদ্যোক্তা। আনন্দ প্রিন্টার্স এবং আনন্দ মুদ্রায়ণের প্রতিষ্ঠাতা তিনি।

৬৮ বছর বয়সী জব্বার ২০০৭ সালের ২৬ মার্চ ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা নিয়ে একটি নিবন্ধ লেখেন। পরের বছর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার যুক্ত করে নেওয়া হয়।

মন্ত্রিসভার আরেক নতুন মুখ শাহজাহান কামাল (৭২) লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সাংসদ। তিনি দীর্ঘদিন লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপাতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ভাই অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি।

আর ৬৩ বছর বয়সী কাজী কেরামত আলী গত নির্বাচনে রাজবাড়ী-১ আসন থেকে চতুর্থবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সোমবার ওই চারজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে থাকতে বলা হয় শপথের জন্য।

এদিকে তিনমন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠানের আগে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদি সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি অদ্য ২ জানুয়ারী মঙ্গলবার নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, এ কে এম শাহজাহান কামাল, মোস্তফা জব্বারকে মন্ত্রী এবং কাজী কেরামত আলীকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

এই চারজনকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা হলো ৫৪ জন। তাদের মধ্যে ৩৩ জন মন্ত্রী, ১৮ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুজন উপমন্ত্রী।

এ ছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বে আছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে আছেন আরও পাঁচজন।

মন্ত্রিসভায় যত রদবদল

গত দুই বছরে বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত ব্যাপক কোনো পরিবর্তন আনেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে এ সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল; যার মধ্যে ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দুজন উপমন্ত্রী ছিলেন।

এর দেড় মাসের মাথায় নতুন করে এ এইচ মাহমুদ আলী মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু পান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। আর হজ নিয়ে মন্তব্যের জন্য অক্টোবরে মন্ত্রিত্ব খোয়ান লতিফ সিদ্দিকী।

২০১৫ সালের ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। তার জায়গায় দায়িত্ব দেয়া তখনকার প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে।

পরের সপ্তাহে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসিকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী এবং তারানা হালিমকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং নুরুজ্জামান আহমেদকে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী করা হয়। ওই দিন মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পান তখনকার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।

এর দুই দিন পর ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই সৈয়দ আশরাফকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ২০১৬ সালের ১১ মে। এরপর ২০১৬ সালের ১৯ জুন খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে পাঠানো হয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। গত বছরের শেষ দিকে এসে ১৬ ডিসেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হকের মৃত্যু হয়।

শপথ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাসহ সামরিক-বেসামরিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।