ধন্যবাদ, প্রিয় প্রবাসী বন্ধুরা, তোমাদের এ সহযোগীতা প্রশংসার উর্দ্ধে

আব্দুল্লাহ আল নোমান

“ইমান হোসেন”। একজন মিতব্যয়ী, সাধামাটা, সংগ্রামী জীবনের এক অসাধারণ একটা গল্পের নাম। যাকে আমরা নার্গিসের চানাচুর ওয়ালা হিসাবেই জানি।
চার যুগেরও বেশি সময় ধরে যিনি ছাত্র ও পথচারীদের চানাচুর খাইয়ে আসছেন। যারা পঞ্চখন্ড হরে গবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে, নার্গিস চানাচুর চাচাকে চিনেন না।
কিশোর বেলার দূরন্ত সময়ে মনে হতো, দুই টাকার চানাচুরে উনি সব লাভ করে ফেলছেন আমাদের কাছ থেকে। কিন্তু না, উনি উনার অবস্থানে এখনও থেকে গেছেন।
এখনকার সময় সব কিছুতেই পরিবর্তনের হাওয়া চোখে পড়ার মতো আকর্ষনীয়। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে নার্গিস চাচার এই গাড়িটি বড়ই বেমানান। হালকা গড়নের এই মানুষটির সাথে প্রায় আমার কথা হয়, চাচাকে বলতাম, চাচা; আর কত! গাড়িটি আর বদলান!! নির্ভিকার চাচা শুধুই হাসতেন। একদিন তার খুব কাছে গিয়ে অনেকটা সময় অগত্যা নষ্ট করে খুব গভীর থেকে জানতে চাইলাম, ইমান হোসেনের সাত মেয়ে এবং এক ছেলে নিয়ে পরিবারের সাতকাহন। এত বড় সংসার চালিয়ে চাচার পক্ষে গাড়িটি বদলানো আর সম্ভব হয় না।
আমি আমার প্রবাসী বন্ধু দের বিষয়টি জানালাম। তারাও ‘BEANIBAZAR EDUCATION AND DEVELOPMENT ORGANIZATION’নামে একটি সংগঠনের আত্ব প্রকাশ করতে যাচ্ছে। নার্গিস চাচার বিষয়টি যেহেতু আমাদের স্কুলের সাথে সর্ম্পকিত তাই তারা এক কথাতেই সবাই রাজি। অগত্যা সময় নষ্টটা রুপ নিলো আত্মবিশ্বাসে।

অবশ্য নার্গিস চাচার কথায় কখনো কোনো চাওয়া পাওয়া ছিল না। আমরা আমাদের দায়িত্বানুভূতি থেকেই এই কাজটি করা। অসম্ভব সত্য হলো, এই মানুষটি সারা বছর টাকা জমিয়ে রাখেন পুরো রমজান মাসের জন্য। একটি মাস নির্ভাবনায় আল্লাহর ইবাদাত করেন। এমন মানুষকে বন্ধুদের সহায়তায় সহয়তা করা তৃপ্তি পাওয়া নয় দায়িত্বের মাঝে পড়ে বলেই ভালো লাগছে।

দোয়া রইলো বন্ধুদের প্রতি। আল্লাহ যেন তাদের কর্মের প্রতিদান করেন।

কাউকে প্রশংসা করে ছোট করবো না, শুধু বলবো..
“হয়তোবা ইতিহাসে তোমাদের নাম লেখা রবেনা..
বড় বড় লোকেদের ভিড়ে..
জ্ঞানী আর গুনিদের আসরে..
তোমাদের কথা রবে, সাধারণ মানুষে ভিড়ে…।

লেখক – আব্দুল্লাহ আল নোমান।