দুই বছর পর কার্গো বিমানের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য

বিয়ানীবাজারকণ্ঠ ডেস্ক ::

দুই বছর পর বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। আর এই সিদ্ধান্তটিকে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

রবিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশন যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য।

তবে এয়ার কার্গো সিকিউরিটি (এসিসি-৩) সনদ নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ইউরোপে কার্গো পরিবহনের সুযোগ নিতে পারবে না।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী শাজাহান কামাল আশা করছেন যুক্তরাজ্যের পথ ধরে অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।

২০১৬ সালের ৮ মার্চ এবং পরে জুনে বাংলাদেশের সঙ্গে আকাশপথে সরাসরি কার্গো পরিবহন স্থগিত করে যুক্তরাজ্য। গত বছর জুনে একই সিদ্ধান্ত নেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন সে সময় হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের সুযোগকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়।

এর আগে একই কারণ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ করেছিল।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও বেশকিছু শর্ত দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এর মধ্যে আছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদে দুজন পরামর্শক নিয়োগ দেয়া, এভিয়েশন সিকিউরিটিতে ইউকে মডেল অনুসরণ করা এবং যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের যৌথভাবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে এজন্য কাজ করে গেছে বেবিচক। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিভিন্ন অনুষঙ্গ যেমন— ইডিএস, ইডিটি স্থাপন হয়েছে।

এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিরা শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্স সরেজমিন পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

গত বছর জার্মানির লুফথানসা সিকিউরিটি টিম বিমানবন্দর পরিদর্শন করে। তারাও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। একই ভাবে ইতিহাদ কার্গোর একটি নিরাপত্তা দলের পরিদর্শনেও শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের অপারেশন সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিবেদন এসেছে।

ইডিএসসহ আরো বেশকিছু যন্ত্রাংশ না থাকায় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে যুক্তরাজ্যসহ কিছু দেশ আকাশপথে কার্গো পণ্য পরিবহন কমিয়ে দেয়। পরে শাহজালালের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হয় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেড লাইনকে। বেবিচকের নিরাপত্তাকর্মীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশিসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরামর্শ দেয় প্রতিষ্ঠানটি।