ইউরোপে শৈত্যপ্রবাহে মৃতের সংখ্যা ৩০

উত্তর মেরু থেকে আসা হার্টমুট নামের শৈত্যপ্রবাহে ইউরোপ জুড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ জন। তবে ইতালি, ব্রিটেন, পোল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেনের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ।

এর মধ্যে ব্রিটেনে ১০ জন, পোল্যান্ডে নয়জন, ফ্রান্সে চারজন, লিথুনিয়ায় তিনজন, ইতালিতে একজন এবং রোমানিয়ায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের বেশির ভাগই গৃহহীন ও বয়স্ক ব্যক্তি।

ইউরোপের একাধিক আঞ্চলিক সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া এই অঞ্চলের ট্রেন ও বিমান চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। শীতের তীব্রতার কারণে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, শনিবার থেকে এই শৈত্যপ্রবাহের তেজ কমতে থাকবে।

অনেক শহরে গৃহহীনদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। রাতে কোনো গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে গ্রেপ্তারের অনুমতি দেয়া হয়েছে বেলজিয়াম পুলিশকে।

চলতি সপ্তাহের প্রথম থেকেই ‘দ্য বিস্ট ফ্রম দ্য ইস্ট’ নাম দেয়া শৈত্যপ্রবাহে ইউরোপের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

গত সোমবার থেকে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মধ্য ও উত্তর ইউরোপের নানা দেশে রাতের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ২৫ ডিগ্রি নিচে এবং দিনের তাপমাত্রাও হিমাঙ্কের ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। আলপাইন পর্বতমালার সমতলের দেশগুলোতে রাতে তাপমাত্রা কমে হিমাঙ্কের ৩০ ডিগ্রি নিচে পৌঁছেছে।

ইতালি, যুক্তরাজ্যের কয়েকটি শহরে তাপমাত্রা মাইনাস ২২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে এসেছে। আর ইস্তোনিয়ায় রেকর্ড করা হয়েছে মাইনাস ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা।