বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় শোক

নেপালের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানিতে নিহতদের স্মরণে এক দিনের শোক পালন করবে বাংলাদেশ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার পালিত হবে ‘শোক দিবস’ হিসেবে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার মসজিদ মন্দিরসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

গত সোমবার বাংলাদেশের বেসরাকরি বিমান পরিচালনাকারী সংস্থা ইউ এস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান নেপালের ত্রিভূবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। এতে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু ছিলেন, যাদের মধ্যে ৫০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নেপালি কর্তৃপক্ষ।

দুর্ঘটনায় বিমানের ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান ও কো পাইলট পৃথুলা রশীদ এবং দুই কেবিন ক্রু শারমীন আক্তার নাবিলা এবং খাজা হুসাইন এবং ২২ বাংলাদেশি যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আরও ১০ বাংলাদেশি। এই দুর্ঘটনার কারণে প্রধানমন্ত্রী তার সিঙ্গাপুর সফর এক দিন সংক্ষিপ্ত করে মঙ্গলবার রাতেই দেশে ফিরেছেন।
এর আগেই বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক এবং আরও প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়ে একটি বিমান পাঠানো হয় নেপালে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালও এখন দেশটিতে অবস্থান করছেন। বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসার ঘোষণাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিমান পরিচালনাকারী সংস্থা ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকেও আহতদের তাদের খরচে দেশে আনা এবং চিকিৎসার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর আগুন লেগে যাওয়ায় অনেক মরদেহ পুড়ে গেছে, ফলে তাদেরকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সভার পাঁচ সিদ্ধান্ত

#নিহতদের স্মরণে ১৫ মার্চ রাষ্ট্রীয় শোক পালন।

# ১৬ মার্চ বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া। অন্যান্য ধর্মীয় উপসনালয়ে ওইদিন সুবিধামত সময়ে প্রার্থনা হবে।

#আহতদের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য একটি মেডিকেল টিম (বার্ন ও অর্থপেডিক সমন্বয়ে) যথ দ্রুত সম্ভব নেপালে পাঠানো হবে।

#নিহতদের পরিচয় সনাক্তের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে একটি টিম পাঠানো।
সভায় দেশবাসীকে ধৈর্য এবং সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য এয়ার-সেফটি বা উড্ডয়ন নিরাপত্তা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, সেনা প্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, বিমানবাহিনীর প্রধান আবু এসরার, পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়রি সহ সংশিষ্ট সচিব ও কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।