বিয়ানীবাজার : খুনিদের বিচরণ ভূমি হতে পারেনা

শরিফুল হক মন্জু

যে মাটির গর্ভথেকে মানবতাবাদ ও ন্যায়ের বিধান রচিত হয়। এই জমিন অমানবিক অন্যায়ের সাথে জড়িত খুনিদের তীর্থভূমি হতে পারেনা। এখানে গড়ে ওঠা সকল মানবিক মানবতা ও ন্যায়- ন্যায়্যতাকে রক্ষা করা বিবেকবান মানুষের কর্তব্য। অমানবিক অন্যায়ের হিংস্র সমাজতো ছিলোনা, ভারতবর্ষের সারস্বতসমাজের গৌরবের পঞ্চখণ্ডের বিয়ানীবাজার। দেড় হাজার বছর অাগে থেকে ভারতবর্ষের সারস্বতসমাজের দৃষ্টিপ্রদীপ ছিলো এই অঞ্চল। মহিমান্বিত এই অঞ্চলের মাটি ও মানুষের মর্যাদা ইতিহাস ঐতিহ্য অাখ্যানে বিরল। সেই মর্যাদা মানবতা ও মনুষ্যত্বের অহংকারের জায়গায়, মনুষ্যত্ব বিসর্জন দেয়া বন্য হিংস্র জানোয়ারদের বিচরণ ভূমি হয়ে ওঠতে পারেনা। এই জনপদের পবিত্র মাটি রক্তাক্ত হলে, ইতিহাস ঐতিহ্য কলঙ্কিত হয়। ভারতীয় ন্যায় দর্শনের বিধায়ক রঘুনাথের জন্মমাটির অাঙ্গিনার ন্যায় নীতির শান্তির ফুল বাগান উপড়ে ফেলের ধৃষ্টতা কারা দেখায়। মানবতাবাদের কিংবদন্তি, অাজীবন মানবতার পূজারী জিসি দেবের অাঙ্গিনায় অমানবিক হিংস্রতার তাণ্ডবলীলা অার কতো চলবে। যে অাঙ্গিনায় মানবতাবাদ ও ন্যায় নৈতিকতার ফুল ফুটেছে। এই ফুল বাগান রক্তাক্ত হতে পারেনা। এই অঙ্গিনার ফুল বাগান রক্ষার দায়িত্ব একা মালীর ওপর বর্তায় না। পৃথিবীর সকল সৌন্দর্যের পূজারী, সাম্য শান্তি সম্প্রীতি পূজারী, ন্যায় নীতি নৈতিকতার পূজারীদের ওপরও বর্তায়। বিবেকের মনুষ্যত্ব দিয়ে, অমনুষ্যত্ব হিংস্র জানোয়ার নির্মূলে এখনই গর্জে ওঠার সময়। মানবের রক্তে দানবের স্নান রুখতে হবে। সকল খুন ও খুনিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে, বিবেকের মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করুন। বিবেক বিসর্জন দিয়ে হাত গুটিয়ে চেয়ে চেয়ে দেখা কাপুরুষ মুনাফিকের লক্ষণ হয়কিনা।

রাত্রির অাঁধারে একজন নিরিহ ব্যবসায়ীর জীবন কেড়েনিয়েছে অজ্ঞাতনামা ঘাতক কাপুরুষের দল। নিঃস্ব অনাথ করে দিয়েছে একটি পরিবারকে। বড়ই নির্মম এই খুনের ঘটনা। এই ঘটনা অনেকের বিবেকের অন্তরে অাঘাত করেছে। অাঘাত যন্ত্রণার ব্যথা বেদনার তীব্রতা কতো কঠিন হতে পারে। তা একমাত্র নিহত ব্যবসায়ী পরিবারই ভালজানে। আমরা জানামতে জামান প্লাজার নিহত ব্যবসায়ী সইব উদ্দিন সৈবন গত তিন দশকের বেশী সময় ধরে বিয়ানীবাজার পৌর শহরে সুনাম ও বিশ্বস্ততার সাথে ব্যবসা বাণিজ্য ও লেনদেন করে আসছিলেন। বড়লেখায় জন্ম হলেও, অনেকেই জানতেন তাঁর বাড়ি বিয়ানীবাজার। বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে বিয়ানীবাজারের মানুষের সাথে নগদ বাকির লেনদেন করতে পিছপা হননি। বিশ্বাস দিয়েই জন্মমাটির পরেই, বিয়ানীবাজারের মাটিকে আপন করে নিয়ে ছিলেন। নিজস্ব জমিজমার ওপর বাসাবাড়ি নির্মান করে আপন ঠিকানা গড়েন বিয়ানীবাজারের দাসগ্রামে। কাপুরুষ ঘাতকের দল তাঁকে বাঁচতে দেয়নি। রাত্রির অাঁধারে তাঁর জীবন কেড়েনিয়েছে অজ্ঞাতনামা কাপুরুষের দল। কতটা নির্মম নির্দয় পাষাণ হৃদয় হলে কাপুরুষা বর্বরতা চালাতে পারে। এইসব নির্দয় কাপুরুষ, মানুষরূপী হিংস্র জানোয়ারের বসবাস চলছে আমাদের সমাজে। যে মাটিতে ন্যায়ের ফুল, মানবতার ফুল ফুটেছে। সে মাটি কাপুরুষ দুর্বৃত্তদের হিংস্র অাঘাতে রক্তাক্ত হবে কেনো। মানবতার ফুল বাগানের সৌরবে যে অাঙ্গিনা শোভাময় হয়েছে। সেখানে দানবের থাবায় মানবের রক্তের বন্যা! রক্তের দাগ, বিবেকে অাঘাত করে। দানদের হত্যা খুনের উন্মাদনায় আর কতো প্রাণ কেঁড়ে নেবে! এক অজানা ভয়ঙ্কর সময় পাড়ি দিচ্ছেন বিয়ানীবাজারবাসী। অজানা অাতংক নিয়ে মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম শুরু হয়। স্বাভাবিক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার নিশ্চয়তা নেই। সর্বত্র সংশয় অবিশ্বাসের ওপর চলছে মানুষের জীবনযাপন।

মানুষরূপী হিংস্র জানোয়ারগুলো আমাদের চারপাশে ঘুরা ফেরা করছে। আমাদের গা ঘেঁষে চলাফেরা করছে। আমরা তাঁদের চিনতে পারিনা। চিনতে পারিনা বলেই, একটি লাশের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই, আরো লাশ পড়ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অমাদের সমাজে মানুষের জীবনের মূল্য কমিয়ে দিয়েছে। সমাজে যখন লাগাম থাকেনা। অপরাধীরা অপরাধ করে যখন অাইনের আওতায় আসেনা। অপরাধ করে পার পেয়ে যায়। পুলিশের উপস্থিতিতে অপরাধীরা যখন প্রকাশ্যে অস্ত্রহাতে মহড়া দিয়ে, ফৌজদারি কার্যবিধির লঙ্গন করে। তখন বুঝতে হবে অপরাধীরা বেপরোয়া। সমাজ অশান্তির দিকে নৈরাজ্যের পথে হাটছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। বিয়ানীবাজারের অাইন শৃঙ্খলা খারাপ না ভালো। মানুষই ভালো জানেন। কতোটা খারাপ হলে, একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। কতোটা নিরাপদ হলে দেশব্যাপী অালোচিত বিউটি ধর্ষন পর খুনের মামলার অসামী বিয়ানীবাজারে অাশ্রয় নিতে পারে। এক সপ্তার ব্যবধানে দুবাগে ডাকাতি, কাকরদিয়াতে ডাকাতি। থানা থেকে এক কিলোমিটার দূরে খাসায় ডাকাতরা স্বর্ণালংকার লুটে নিয়ে শুধু দুঃসাহস দেখায়নি। পুলিশের নাকের ডগায় বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। জীবন্ত একজন পরিচিত মানুষের পরিচয় সত্যায়ন করতে পুলিশের যখন পাঁচ থেকে ছয়মাস সময় লাগে। তখন প্রাণ কেঁড়েনেয়া একজন মানুষের গুপ্তঘাতক কাপুরুষ মুখোশধারীকে খোঁজে বের করতে পুলিশের কতোটা সময় লাগবে। ওই লেখাটি যখন লিখছি তখন কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে খবর বেরিয়েছে পুলিশ একজনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি রক্তাক্ত গাড়িসহ বেশকিছু অালামত জব্দ করেছে। বাকিটা জানার অাগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণে থাকলো। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করে অাইনের আওতায় আনা হোক। অনেকের মতো অামারও একই দাবী।

লেখক : শরিফুল হক মন্জু, প্রবাসী সাংবাদিক । 

বি:দ্র :: মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। বিয়ানীবাজারকণ্ঠ.কম এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে বিয়ানীবাজারকণ্ঠ.কম আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।