বিয়ানীবাজারে বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে যুবককে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি আপলোড করার ভূয়া অভিযোগ তুলে এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ‘ফিল্মি স্টাইলে’ বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে যুবক জাকির হোসেনকে অটোরিক্সায় তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। ঘটনাটি গত ২৮ জুন ভারত সীমান্তবর্তী দুবাগ ইউনিয়নে ঘটেছে।

নির্যাতনের শিকার জাকির হোসেনকে (২৫) স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনার সাথে দুবাগ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস ছালামের পুত্র সৌমিক, ইউনিয়র পরিষদের উদ্যোক্ততা আরিফ ও তার বন্ধুরা জড়িত থাকায় ভয়ে কেউ মুখ খোলছে না। স্থানীয় প্রভাবশালীরা নির্যাতনকারি যুবকদের রক্ষা করতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। নির্যাতনের শিকার জাকির হোসেন ইউনিয়নের মেওয়া গ্রামের বশির আহমদ বকই এর পুত্র। নির্যাতনকারি আরিফ ইউনিয়নের নয়াদুবাগ এলাকার আতিকুর রহমানের পুত্র এবং জামান ও তুহিন দক্ষিণ চরিয়া এলাকার ডা. আইয়ুব ও আসাদ উদ্দিনের পুত্র।
দুবাগ ইউনিয়ন পরিষদের সহকারি উদ্যোক্তা আরিফ হোসেন (২৪), তার সহযোগি নাহিদ তুহিন (২৪), সৌমিক (২৩) ও জামানসহ কয়েকজন যুবক সুপ্রিম কমিউনিটি সেন্টারের ওৎপেতে থাকে। বিয়ের ভোজন সেরে জাকিরকে বেরিয়ে আসলে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাকে অটোরিক্সা তুলে নেয় যুবকরা। দুবাগ ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে পৌছার পর জাকিরকে অটোরিক্সা থেকে নামিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় জাকিরের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে যুবকরা আবারও তাকে অটোরিক্সা তুলে দুবাগ আইডিয়াল একাডেমীর সামনে নিয়ে নির্যাতন চালায়। এ সময় জাকিরের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন।
স্থানীয়রা জানান, ফেসবুকের কয়েকটি ভূয়া আইডি থেকে আরিফ ও তুহিনের কয়েকটি আপত্তিকর ছবি আপলোড করা হয়। পৃথক কিশোরীদের সাথে তাদের আপলোড হওয়া ছবিগুলো ভাইরাল হলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ফেসবুকে ‘জাকির বকই’, ‘নাহিদ সুমি’ ও ‘নষ্ট জীবন’ নামের তিনটি ভুয়া ফেইসবুক আইডি থেকে এসব ছবি আপলোড করা হয়।
ফেইক ফেসবুক আইডির একটি জাকির ও তার পিতা বকই এর নামে যুক্ত করায় আরিফ ও তুহিন সহযোগীদের নিয়ে তুলে নিয়ে নির্যাতন চালায়। অটোরিক্সা শ্রমিক নেতা কলিম আহমদ রক্তাক্ত অবস্থায় জাকিরকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় মুরব্বি মক্তদির আহমদ ও শাহিদ আহমদ তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে প্রেরণ করেন।
ভিকটিম জাকির হোসেন জানান, ঘটনার এক দিন পূর্বে আরিফ ও জামান আমার বাড়িতে এসে নানা কথায় ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো ফেইক আইডি থেকে আপলোড হয়েছে বলে জানায়। এ সময় তারা আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে চলে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কমিউনিটি সেন্টারে আত্মীয় বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে আরিফ ও তুহিন কয়েকজন যুবক সাথে নিয়ে আমাকে অস্ত্র দেখিয়ে রনির সিএনজিতে (অটোরিক্সা) তুলে নিয়ে দুই দফা শারীরিক নির্যাতন করে। তারা ধারালো ছুরি দিয়ে কোপ দেয়ার করার চেষ্টা করলে কলিম ভাই আমাকে উদ্ধার করেন।
অট্রেরিক্সা ট্রেড ইউনিয়ন ২০৯৭ দুবাগ শাখার সাবেক সভাপতি কলিম আহমদ জানান, দুবাগ বাজারে আসার পথে দেখি কয়েক জন যুবক মিলে এক যুবককে মারধর করছে। আমি এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ঘটনাটি তাৎক্ষণিক সামাল দেই।
দুবাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম বলেন, এটি অনাকাঙ্খিত একটি ঘটনা। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করছেন মুরব্বিরা।

তিনি বলেন, আমার পুত্র ঘটনাস্থলে থাকার খবর পেয়ে সাথে সাথে জাকিরের বাড়িতে ছুটে যাই। জাকিরের পিতাকে আশ্বস্থ করেছি সঠিক শালিস বিচারের মাধ্যমে ন্যায় বিচার করা হবে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজালাল মুন্সী বলেন, এ রকম কোন ঘটনার বিষয়ে আমি অবহিত নই। এ নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়িদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।