গোলাপগঞ্জ পৌরসভা উপনির্বাচন : নৌকা নিয়ে ইদুর দৌড় নির্ভার ধানের শীষ

মাহবুবুর রহমান চৌধুরী

গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে উপ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় মনোনয়ন পেতে ইদুর দৌড়ে নেমেছেন আওয়ামীলীগের তিন প্রার্থী। এই দৌড়ে কে বিজয়ী? তা জানা যাবে আগামীকাল শুক্রবার। এই তিন প্রার্থী হলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু, যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা আমিনুল ইসলাম রাবেল, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক রুহেল আহমদ।

যদিও এই দৌড়ে প্রথমে আরো ৩জন প্রার্থী ছিলেন। তাদের দৌড় বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় কার্য্যালয় পর্যন্ত গিয়ে পৌছেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও পৌর আওয়ামীলীগের যৌথ সভায় মেয়র পদে নির্বাচন করার লক্ষ্যে নাম প্রস্তাব আসে ছয়জনের তাদের মধ্যে রাবেল , পাপলু, রুহেল ছাড়া আরো ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী রিংকু, পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি রুহিন আহমদ খান, যুবলীগ নেতা জেবুল আহমদ। শেষপর্যন্ত আংশিক সমযোতায় তিনজন নাম প্রত্যাহার করে নিলেও একক প্রার্থী নির্ধারন করতে না পারায় অপর তিন জনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সভা থেকে বেরিয়ে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামীলীগ নেতা এম. ফজলুল আলম এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানান, একাধীক প্রার্থী থাকায় দলীয় ফোরাম ৩জনের নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। এখন তাদের দৌড় হবে কেন্দ্রে সেখান থেকে নিজ যোগ্যতায় যিনি নিয়ে আসবেন তিনিই নৌকার প্রার্থী হবেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মঙ্গলবার গোলাপগঞ্জ পৌর শহরে ভোরের আলো ফুটার আগেই তিনজন কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেছেন। গতকাল (বুধবার) বিকাল ৪টায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আমিনুল ইসলাম রাবেল এ প্রতিবেদককে জানান, ‘‘কিছুক্ষন পূর্বে দলীয় কার্য্যালয়ে আবেদন জমা দিয়ে এসেছি। আগামীকাল (শুক্রবার) এবিষয়ে দলের হাইকমান্ড থেকে ঘোষনা করা হবে প্রার্থীর নাম। তিনি নৌকা প্রতীকের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানান।” দলীয় প্রতিক না পেলে নির্বাচন করবেন কিনা জানতে চাইলে পৌরসভার সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু সিলেট মিররকে জানান, না পাওয়ার কোন কারন নেই বাকিটা সময় হলে সব জানা যাবে। অপর দিকে বিএনপির একক প্রার্থী সিলেট জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মহিউস সুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ধানের শীষের একক দাবীদার হয়ে অনেকটাই নির্ভার । তিনি উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দলের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তবে ধানের শীষ প্রতীক আর কেউ না চাইলেও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহীন স্বতন্ত্র নির্বাচনের সিদ্ধান্ত কিছুটা চিন্তায় ফেলেছে মহি উস সুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস কে। যোগাযোগ করা হলে নার্জিস চৌধুরী জানান, জয় পরাজয় বড় কথা নয় , নির্বাচন করলে দলীয় প্রতীক নিয়েই করা উচিৎ এতে দলের নেতাকর্মীদের মন চাঙ্গা হয় এবং উৎফুল্লভাব আসে। গতকাল (বুধবার) উপজেলা যুবদলের সভাপতি হেলালুজ্জ্বামান হেলালের ব্যাক্তিগত অফিসে উপজেলা ও পৌর বিএনপির সভা আহবান করা হয়েছে। বিকেলে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌর বিএনপির এক নেতা জানান, সভাটি অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। ধানের শীষ প্রতীক নার্জিস চৌধুরী পাবেন এটা মোটামোটি নিশ্চত। এদিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ডজন খানেক প্রার্থীর নাম শুনা গেলেও বর্তমানে তা নৌকা-ধানের শীষ-বিদ্রোহী (৩-১-১) সমীকরনে এসছে ঠেকেছে। উল্লেখ্য ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পৌরসভার ৩য় নির্বাচনে সিরাজুল জব্বার চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী) হিসেবে মোবাইল ফোন প্রতীকে ৪ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুর রহমান লিপন নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ২০৮ ভোট পান এবং তৎকালীন মেয়র ও আওয়ামীলীগের প্রার্থী জাকারিয়া আহমদ পাপলু নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছিলেন ২ হাজার ৪শত ৫ ভোট। বিএনপির প্রার্থী ধানের শিষ প্রতীকে গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন পেয়েছিলেন ২ হাজার ৩শত ৬০ ভোট। নৌকা ও ধানের শীষ প্রার্থীরা হয়েছিলেন যথাক্রমে ৩য় ও ৪র্থ তাদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিলো ৪৫টি।